মোঃ মাইন উদ্দিন
হাওড়াঞ্চলের সাহসী সন্তান, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) সংসদীয় আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জননেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর হাওড়বাসী নতুন স্বপ্নে বুক বেঁধেছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি হয়তো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন- এমন আলোচনা মন্ত্রিসভা গঠনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরেশোরে ঘুরে বেড়িয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর দেখা গেল, মন্ত্রীর তালিকায় তাঁর নাম নেই। এতে হাওড়াঞ্চলে কিছুটা হতাশার সুর শোনা গেলেও তা ভেঙে পড়ার হতাশা নয়; বরং প্রত্যাশার নতুন এক রূপ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখেছেন- মন্ত্রীত্ব বা পদ-পদবি থাকুক কিংবা না থাকুক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তিনি অতীতে যেমন সোচ্চার ছিলেন, আগামীতেও তেমনি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে থাকবেন। তাঁর রাজনীতি ক্ষমতা বা পদলাভের জন্য নয়; আদর্শ, ত্যাগ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য- এমন বিশ্বাসই সমর্থকদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
বাস্তবতা হলো, হাওড়াঞ্চল এখনও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে। বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, কৃষিনির্ভর অর্থনীতির ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ- এসব দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী। ফলে এখানকার প্রত্যাশা কেবল মন্ত্রীত্বকে ঘিরে নয়; হাওড়বাসী চায় কার্যকর নেতৃত্ব, দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং জাতীয় পর্যায়ে হাওড়ের সমস্যাগুলোর শক্ত ও সুস্পষ্ট উপস্থাপন।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আত্মত্যাগের গৌরবময় ইতিহাস ধারণ করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক দক্ষতা যদি হাওড়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়, তবে পদমর্যাদা বড় বিষয় হয়ে থাকবে না। সংসদ সদস্য হিসেবেই তিনি আইন প্রণয়ন, বাজেট আলোচনা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন- এটাই হাওড়বাসীর প্রত্যাশা।
হাওড়বাসীর প্রার্থনা- মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তাঁর আপোষহীন অবস্থান অটুট থাকুক; মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা আরও দৃঢ় হোক। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ পদমর্যাদা নয়, কাজের ফলাফলের ওপরই আস্থা রাখে।
হাওড়ের মানুষ এখনও আশাবাদী। তাদের আশা মিটে যায়নি; বরং তা এখন দায়িত্ববোধ ও দৃঢ় প্রত্যয়ের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সময়ই বলে দেবে, এই আস্থা কতটা বাস্তব উন্নয়নে রূপ নেয়।