আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার সামরিক উত্তেজনা নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, গত বছরের সংঘাতের সময় উভয় দেশের অন্তত ১১টি অত্যন্ত দামি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ না থামালে দুই দেশের ওপরই ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে তিনি এই লড়াই বন্ধ করতে বাধ্য করেছিলেন বলে দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার জর্জিয়ার রোমে ‘বোর্ড অফ পিস’ আয়োজিত এক সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই নতুন তথ্য দেন। এর আগে তিনি আটটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কথা বললেও এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১১টি বলে উল্লেখ করেন।
কী বলেছিলেন ট্রাম্প?
সভায় ট্রাম্প বলেন, “সেই সময় যুদ্ধ চরমে ছিল। একের পর এক বিমান ভূপাতিত করা হচ্ছিল। আমি ভারত ও পাকিস্তানের উভয় নেতার সাথেই কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালো চিনি। আমি তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলাম—যদি তোমরা যুদ্ধ বন্ধ না করো, তবে আমি তোমাদের সাথে কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি করবো না এবং উভয় দেশের পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে দেব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দুটি দেশই লড়তে চেয়েছিল। কিন্তু যখন অর্থের (বাণিজ্যের) প্রশ্ন এল, তখন তারা পিছিয়ে গেল। কারণ অর্থের চেয়ে বড় কিছু নেই। এভাবেই আমি ২৫ কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছি।”
ভারতের অবস্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে সময়ের কথা বলছেন, তা ২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট। সে বছর এপ্রিলে পহলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করেছিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তার মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
তবে ভারত সরকার শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই দাবির বিরোধিতা করে আসছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে:
১. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার সুযোগ নেই।
২. ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি কোনো বিদেশি চাপের মুখে নয়, বরং দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO)-দের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল।
৩. ভারত কখনোই তাদের কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা স্বীকার করেনি এবং ট্রাম্পের দেওয়া ১১টি বিমান বিধ্বস্তের দাবিকেও ভিত্তিহীন বলে মনে করে নয়াদিল্লি। সেই কারণেই ট্রাম্পের এমন দাবিতে অস্বস্তিতে পড়ে যাচ্ছে ভারতের মোদি সরকার।
উল্লেখ্য, গত এক বছরে ট্রাম্প অন্তত ৮০ বার দাবি করেছেন যে তার কারণেই দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের বাণিজ্যিক নীতি বা ‘ট্যারিফ ডিপ্লোম্যাসি’ কতটা কার্যকর, তা বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করতেই ট্রাম্প বারবার এই প্রসঙ্গটি টেনে আনছেন।