রাজধানীর উত্তরায় আড়ংয়ের শোরুম থেকে মায়ের জন্য কাপড় কিনে শপিং ব্যাগ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাসায় ফিরলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। হাতে করে কাপড় নিয়ে বাসায় ফেরার এই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
সাড়ে চার হাজার টাকার কাপড় কিনলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। কাউন্টারে বিল দেওয়ার সময় কোনো ব্যাগ ছাড়াই তার হাতে চারটি কাপড় ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রুমিন ফারাহানাও এগুলো হাতে করে বেরিয়ে পড়েন। হাতে করে কাপড় নিয়ে আসার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাওয়া যায়। ব্যাগ না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন শুভ।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রুমিন ফারহানা এমপিও। শনিবার রাতে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘ইফতারের পর রাজধানীর উত্তরার জসিম উদ্দিন রোডের আড়ং শোরুমে যাই। মায়ের জন্য চারটি কাপড় (ম্যাক্সি) কিনি। কাউন্টারে যাওয়ার পর সাড়ে চার হাজার টাকার বিল ধরিয়ে কোনো ব্যাগ ছাড়াই কাপড় বুঝিয়ে দেয়। আমি সেভাবেই কাপড় নিয়ে চলে আসি। ’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাড়ে চার হাজার টাকার কাপড় কিনে কেন আমি দাম দিয়ে ব্যাগ নেব। এটা কোনো বিষয় হতে পারে না। আমি আসলে আড়ংয়ে যাই না। জীবনেও যেতাম না। কিন্তু আমার মায়ের গায়ে লাগে এমন কাপড় আড়ংয়েই পাওয়া যায় বলে সেখানে যাওয়া। ’
এদিকে জাকির হোসেন ফেসবুকে লিখেন, ‘অনেক দিন লিখবো লিখবো বলে লিখি নাই। কিন্তু আজ লিখতে বাধ্য হইলাম-
আড়ং থেকে কেনাকাটা করতে গিয়ে আজ এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। একজন সংসদ সদস্যকে এতটুকু সম্মান দেখানো উচিত ছিল তাদের পক্ষ থেকে। আমরা গ্রাহকরা টাকা দিয়ে পণ্য কিনব, কিন্তু সেই পণ্য বহন করার জন্য একটি সাধারণ শপিং ব্যাগও পাব না—এটা কেমন নিয়ম?
পরিবেশ রক্ষার কথা বলে যদি শপিং ব্যাগ বন্ধ করা হয়, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থাও তো থাকতে হবে। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, গ্রাহকের সুবিধার চেয়ে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়াটাই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে।
একটা ব্র্যান্ড যখন মানুষের ভালোবাসা আর আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সেই ব্র্যান্ডের দায়িত্বও থাকে গ্রাহকের প্রতি সম্মান দেখানোর। আমি মনে করি— গ্রাহকের ন্যূনতম সম্মান নিশ্চিত করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। গ্রাহকের কষ্ট যেন অবহেলার বিষয় না হয়। জানতে চাইলে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন জাকির হোসেন শুভ। আড়ং থেকে কিছু কিনলে আলাদা দাম দিয়ে ব্যাগ কিনতে হয় বলে তিনি জানান।
তবে এ নিয়ে আড়ং কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাত ৯টা ১০ মিনিটে উত্তরার শোরুমের টিএন্ডটি নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও কেউ রিসিভ করেননি।
একটি সূত্র জানায়, আড়ংয়ের শোরুম থেকে ক্রেতাকে ব্যাগ কিনতে হয়। একেকটি ব্যাগের দাম সাড়ে ১২ টাকা থেকে ৭৫ টাকা। ব্যাগগুলোতে তাদের সিল দেওয়া থাকে।