ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভ্যন্তরে, বিশেষ করে আইডিএফ এবং মোসাদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল্লা’ জানিয়েছে, দখলদার রাষ্ট্রটির সামরিক বাহিনীর কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, মোসাদ ইরানের স্থিতিস্থাপকতা বা সহনশীলতাকে অবমূল্যায়ন করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, গোয়েন্দা সংস্থাটি ধারণা করেছিল যে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্মূল এবং কমান্ড সেন্টারে বড় ধরনের হামলার মাধ্যমে তেহরান সরকারের দ্রুত পতন ঘটানো সম্ভব।সামরিক বাহিনী বলছে, দ্রুত পতনের সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি। ইরান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও তাদের সরকার এখনো টিকে আছে।
অন্যদিকে ‘কারসর’ রিপোর্ট করেছে যে, মোসাদ এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। অভিযানের পরিকল্পনার সাথে জড়িতরা বলছেন, তারা কখনোই সরকারের দ্রুত পতনের প্রতিশ্রুতি দেননি। মোসাদ প্রধান দাদি বার্নিয়া ইসরায়েলি ক্যাবিনেট এবং মার্কিন নেতৃত্বকে দেওয়া ব্রিফিংয়ে দীর্ঘমেয়াদী সময়সীমার (কয়েক মাস থেকে এক বছর বা তার বেশি) কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশীয় বিদ্রোহের মাধ্যমে দ্রুত সরকার পতনের সম্ভাবনা ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ।
সূত্রমতে, এই উত্তেজনার কিছু অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও আসতে পারে, যেখানে কিছু গোষ্ঠী এই অভিযানের বিরোধী। তবে ইসরায়েলের ভেতরে এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়। আগের অভিযানের সময় মোসাদ এজেন্টদের একটি ভিডিও প্রকাশের পর সামরিক বাহিনী ক্ষুব্ধ হয়েছিল; তাদের মনে হয়েছিল মোসাদ বিমানবাহিনীর সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি চললেও, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে মোসাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সমস্ত পদক্ষেপ রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বারা অনুমোদিত এবং ক্যাবিনেটকে নিয়মিত ব্রিফিং করা হচ্ছে। তবে ইরান ইস্যুতে এই অভ্যন্তরীণ স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।























