March 29, 2026, 3:42 am

‘ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করে আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরব’

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, March 28, 2026
  • 9 Time View

ইরান দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানে হামলা চালাতে সহায়তা করছে।

ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরব তাদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে অনুমতি দিয়েছে, যাতে তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ও তা সমর্থন করতে পারে। এ তথ্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো পৃথক অভিযোগপত্রে তেহরান জানিয়েছে, ১৫ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে একাধিকবার মার্কিন যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান, নজরদারি ড্রোন এবং সহায়ক বিমান সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে বা সেখান দিয়ে যাতায়াত করেছে।

দ্য ন্যাশনালের জাতিসংঘ প্রতিনিধি আদলা মাসউদ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এসব চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, আত্মরক্ষার জন্য ইরান “সমস্ত প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত ব্যবস্থা” নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

উল্লেখিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—এফ-৩৫ ও এফ-১৮ যুদ্ধবিমান, বি-১ বোমারু বিমান, আরকিউ-৪ ও ইউ-২ নজরদারি বিমান এবং পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান—যেগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবের আকাশসীমায় উড়ে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলায় সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

চিঠিগুলোতে তিন দেশকে “সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতি” মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

এই অভিযোগের মধ্যেই শুক্রবার রাশিয়ার অনুরোধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরান বিষয়ে একটি বন্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘে রাশিয়ার মিশনের মুখপাত্র ইভজেনি উস্পেনস্কি জানান, “শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসহ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর চলমান হামলার” কারণে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে, যেখানে বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ শতাধিক মানুষ নিহত হন। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এই সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে। সৌদি আরব গত সপ্তাহে কয়েকজন ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে, তাদের ভূখণ্ডে “বারবার হামলার” অভিযোগ তোলে। কাতার একটি বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনায় হামলার পর ইরানি সামরিক প্রতিনিধিদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ধৈর্য “সীমাহীন নয়” এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সূত্র: আরটি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com