মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তান সারা দেশে ইসলামী অর্থায়ন সেবা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে প্রাথমিক সেবাগুলো ২০২৭ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির সাম্প্রতিক ‘উজবেকিস্তান ২০৩০’ উন্নয়ন কৌশল অনুযায়ী, এই দশকের শেষে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক শরিয়াহসম্মত আর্থিক সেবা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ব্যাংকিং খাতের কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করবে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভকে ২৫ মার্চ দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে তাশখন্দ আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্রযুক্তি কেন্দ্র চালু করা এবং ধাপে ধাপে ইসলামী অর্থায়ন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা।
বর্তমানে উজবেকিস্তান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে চাইছে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং চলমান সংস্কার আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলোকে নতুন বাজারে প্রবেশে উত্সাহিত করার মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে আধুনিক অবকাঠামো, স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ বছর উজবেকিস্তান ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ইসলামী অর্থায়ন গৃহীত সংস্কার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় মুরাবাহা, মুদারাবা, মুশারাকা এবং ইসলামী লিজিং অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা সবই জাতীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও কিছু পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে, যেমন নির্দিষ্ট লেনদেন এবং বিনিয়োগ আয়ের ওপর কর ছাড় দেওয়া।
এই খাত তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে একটি ইসলামী অর্থায়ন কাউন্সিল গঠন করা হবে এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যেও অনুরূপ সংস্থা তৈরি করা হবে। এসব কাউন্সিল মান নির্ধারণ, চুক্তি পর্যালোচনা এবং শরিয়াহ-সম্মততা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবে।
প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এই বছর অন্তত একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ‘উইন্ডো’ কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা করছে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে অতিরিক্ত এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও আমানত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
সূত্র: টাইমস অব সেন্ট্রাল এশিয়া