সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিএনপি ২০০-এর বেশি আসন জয় করেছে, যা তাদের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা এনে দিয়েছে। এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা গণতন্ত্রের জন্য উভয়ভাবে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন।
মাসুদ কামাল বলেন, ‘নির্বাচনে আলোচিত প্রার্থী ছিলেন রুমিন ফারহানা ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে প্রায় ৩৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি আগের বছরগুলোতে বিএনপির হয়ে রাজনীতি করেছেন। অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জামায়াতের প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন।
’
তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা হেরে গেলেও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান জয়ী হয়েছেন। এনসিপির কিছু নেতা জয়ী হলেও দলীয় পদত্যাগ ও জোটসংক্রান্ত বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা দেখিয়েছে; কোনো নেতা জয়ী হননি।’
মাসুদ কামাল বলেন, ‘নির্বাচনে হিন্দু ভোটের প্রভাব এবং নারী ভোটের অংশগ্রহণ বিএনপির বিশাল জয় নিশ্চিত করেছে।
বিশেষ করে হিন্দু ভোটের একাংশ এবার বিএনপিতে গেছে। তবে ভবিষ্যতে এই ভোটের রূপান্তর আবার হতে পারে।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি। কিন্তু ২ কোটি ২৫ লাখ ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন। এত বড় সংখ্যক ভোটার কেন ‘না’ ভোট দিয়েছেন? তারা কি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্দেশ না মানা মানুষ, নাকি অন্য কোনো কারণে বাধ্য হয়ে ভোট দিয়েছেন?”
মাসুদ কামাল বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়া নেতারা এই অবাধ্য ভোটারদের নজরে রাখবেন এবং জনগণের অধিকার ও প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে দায়িত্ব পালন করবেন।