March 29, 2026, 2:16 am

খুলনায় ডিপোতেও চলছে জ্বালানি তেলের সংকট

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, March 28, 2026
  • 18 Time View
খুলনায় জ্বালানি তেলের সংকট এখন আর শুধু ফিলিং স্টেশনেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে ডিপোগুলোতেও। ডিপো থেকে পাম্প পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্বাভাবিক চাপ, দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন, কৃষি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

নগরীর মেঘনা ডিপো এলাকায় দেখা যায়, শতাধিক ট্যাংক লরি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

অনেক চালক ভোর থেকেই লাইনে থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল উত্তোলনের সিরিয়াল পাচ্ছেন না। একই চিত্র পদ্মা ও যমুনা ডিপোতেও। 

শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর নগরীর নতুন রাস্তা এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে ট্যাংক লরিগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সকাল হলেই সেগুলো লাইনে দাঁড়িয়ে যাবে তেলের জন্য।

 

চালকদের অভিযোগ, সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডিপো থেকে তেল উত্তোলনে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল পৌঁছানো যাচ্ছে না। এতে শহরের বিভিন্ন পাম্পে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পাম্পেই দুপুরের আগেই তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে, আর যেগুলোতে তেল আছে, সেগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

 

নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সীমিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন। কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, যা চালকদের জন্য এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত বঞ্চনা বলে অভিযোগ।

ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় তারা অনেক কম তেল পাচ্ছেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান বলেন, সংকট শুরুর পর থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার লিটার পেট্রল ও তিন হাজার লিটার অকটেন দেওয়া হতো। অথচ আগে দেওয়া হতো সাড়ে ৪ হাজার লিটার করে।

কিন্তু গত দু-দিন ধরে আরো ১ হাজার লিটার কমিয়ে মাত্র ২ হাজার লিটার করে দেওয়া হচ্ছে। এতে সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাও প্রাইভেট কারে ১ হাজার ও মটরসাইকেলে ২০০ টাকার করে দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রল ও সাড়ে ৪ হাজার অকটেনের চাহিদা থাকলেও এখন চাহিদা আরো বেড়েছে। 

অপরদিকে, ডিপো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। গত বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত গড় উত্তোলনের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, সীমিত সরবরাহের কারণে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা ছাড়া বিকল্প নেই।

খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হাই মোহাম্মাদ আনাস বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে রাখা হয়েছে এবং পাম্পগুলোতে নিয়মিত তদারকি চলছে। কোথাও অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com