গাজীপুরে মাদরাসাছাত্র মাহাবুব ইসলাম রনিকে (১৩) নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ।
গ্রেপ্তার আসামি ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার তুলন্দর গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে। গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মাহাবুব ইসলাম রনি জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদরাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের ছাত্র ছিল। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে তারাবির নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে স্থানীয় একটি জঙ্গলের ভেতর আগুনে পোড়া অবস্থায় রনির লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। লাশের কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত অংশ দগ্ধ ছিল। এ ঘটনায় নিহতের দাদা তারা মিয়া বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর জয়দেবপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই গাজীপুর জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মার্চ রাতে ভবানীপুর এলাকা থেকে পিবিআইয়ের একটি দল ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পরে স্বীকারোক্তিতে ছাব্বির জানান, ঘটনার রাতে তিনি নির্জন জঙ্গলে বসে গাঁজা সেবন করছিলেন। এ সময় রনি তাকে গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেললে বিষয়টি লোকজনকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। ছাব্বির বারবার অনুরোধ করলেও রনি রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। পরে পেছন থেকে গলা টিপে ধরে এবং ঘাড় মটকে দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাশে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যান।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর ছাব্বির আহম্মেদ শুক্রবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।