জামায়াত জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে বলে যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ও অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কেউ যদি জামায়াতের দেওয়া জান্নাতের টিকিট দেখাতে পারে, তবে আমরা রাজনীতি ছেড়ে দেবো।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে জয়পুরহাট শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সাক্ষী দেন আপনারা, জয়পুরহাটের হাজার-হাজার লোক এখানে আছেন। জামায়াতে ইসলামের কোনো নেতা, কোনো কর্মী আপনাদের কি একটা টিকিট জান্নাতের বিক্রি করেছে? না। দেখান তো যে আমার কাছে একটা টিকিট আছে, জান্নাতের টিকিট পেয়ে গেছি। তাহলে যে কথাগুলো তারা বলছে এটা কি সত্য না অসত্য? অসত্য কথা। আমি এখানে বলতে চাই, যদি কোরআন হাদিসের জ্ঞান থাকে- কোনো লোক এ কথা বলতে পারে। যারা এ কথাগুলো বলছে- আমি বলবো হয় তারা কোরআন হাদিস পড়ে নাই অথবা জানে না অথবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কথা বলা হচ্ছে। দ্বিতীয় তারা অপপ্রচার করছে। অপপ্রচারের পরে আমি তাদের একটা কথা বলতে চাই।
তিনি বলেন, ওরা যে সমস্ত কথাগুলো বলে, ওদের নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে আমরা শরীয়তের আইন বিশ্বাস করি না। বলেন বলেছে কি বলে নাই? হাত উঠিয়ে দেখান তো যে বলেছেন। সবাই জানে শরীয়তের আইনে তারা বিশ্বাস করে না। যখন ইলেকশনের ভোট তারপরে একই মুখ থেকে আরেকটি কথা শোনা গেল। কি শোনা গেল? যে আমরা যদি ক্ষমতায় যাই তাহলে শরীয়তের বিরুদ্ধে কোনো আইন পাস করবো না। তাহলে একই লোকের মুখে এক সময় এক কথা আরেক সময় আরেক কথা, যারা একসময় এক কথা আরেক সময় আরেক কথা বলে তাদেরকে কি বলে? মোনাফেক।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, তারা বলে আমরা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি। কিন্তু দেখাইতে পারবে না পারবে? চ্যালেঞ্জ থাকলো গোটা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে, একটা টিকিট যদি তারা দেখাইতে পারে জামায়াত ইসলামী দিয়েছে, আমরা রাজনীতি ছেড়ে দেবো। তারা আবার একটা কার্ড নিজেরা বিক্রি করছে। সেই কার্ডের নাম কি? ফ্যামিলি কার্ড, আচ্ছা বলুন তো ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজটা হলো সরকারের। কার? গভর্মেন্টে যে যাবে তার। কোনো দল যদি এখনই শুরু করে দেয় কার্ড বিক্রি করতে, তাহলে ওই দলটা যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রের সরকার হয়ে যাবে। এই চিন্তা করে বিক্রি শুরু করেছে, তো অন্যায়ভাবে যদি সরকারে যায়, তাহলে আগের সরকারের মতোই তো থাকলো। অতএব বিগত ফাসিস্ট সরকারের ভাষা আর বর্তমানে যারা এই ধরনের অপবাদ দিয়ে কথাবার্তা বলছে তাদের ভাষা যদি একই হয়, তাহলে পরিণতি কি আলাদা হবে না একই হবে? একই। ওরা তো তাও প্রতিবেশী দেশের সাথে খাতির করে পালানোর একটা জায়গা পাইছে। কিন্তু যারা এখন এসব করছে, তারা কি কোনো জায়গা পাবে বলে মনে হয়? না।
মুজিবুর রহমান বলেন, লেডিস ফাস্ট, মহিলারাই প্রথম, তাদের ব্যাপারে আমরা ঘোষণা করেছি, মহিলারা আট ঘণ্টা নয়, তারা কাজ করবে পাঁচ ঘণ্টা। পুরুষেরা কাজ করে আট ঘণ্টা, আর এখন মহিলাদেরও আট ঘণ্টা করতে হয়। আমরা বলছি, মায়েরা, বোনেরা, তারা শ্রমিক হিসেবে শুধু দায়িত্ব পালন করে না, তারা ছেলে-মেয়েকে লালন-পালন করতে হয়। হয় না? স্বামীকে সহযোগিতা করতে হয়। অনেক কাজ আছে তাদের। এই জন্য আমরা বলছি, তারা তিন ঘণ্টা তাদের ছেলে-মেয়ে সংসারকে দেবে, আর পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবে। পাঁচ ঘণ্টা কাজ করেও তারা আট ঘণ্টার সমান বেতন পাবে।
জনসভায় জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা আমির ফজলুর রহমান সাঈদ সভাপতিত্ব করেন। এতে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই) আসনের জামায়াতের প্রার্থী এসএম রাশেদুল আলম সবুজ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) জেলা কমিটির সভাপতি সুলতান মো. শামছুজ্জামান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কবির, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তারেক ইসলাম প্রমুখ।