সম্প্রতি ইরানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘উসকানি’ দিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। এমনটি বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। খবর আল–জাজিরার।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক টেলিভিশন ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, তারা সজ্জিত করে অনেক নিরপরাধ মানুষকেও এই আন্দোলনে যুক্ত করেছে এবং রাজপথে নামিয়েছে। তাদের এমনভাবে উসকানি দেয়া হয়েছিল, যাতে তারা এই দেশকে টুকরা টুকরা করে ফেলে এবং জনগণের মধ্যে সংঘর্ষ ও ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘যেকোনো স্বাভাবিক বিক্ষোভে কেউ হাতে বন্দুক তুলে নেয় না। সামরিক বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করে না। অ্যাম্বুলেন্স বা বাজারে আগুন দেয় না। আমাদের উচিত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বসা। তাদের কথা ও উদ্বেগের বিষয়গুলো শোনা এবং সেগুলোর সমাধান করা। আমরা শুনতে প্রস্তুত।’
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘সবাই জানে, বিষয়টি কেবল একটি সামাজিক আন্দোলন ছিল না’। বিদেশি শক্তিগুলো আমাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সুযোগ নিয়েছে, আমাদের উসকানি দিয়েছে এবং আমাদের দেশ ও সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে।’
তেহরান কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে এবং মৃতের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি বলে জানিয়েছে। তবে তাদের দাবি, নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অথবা ‘দাঙ্গাকারীদের’ হাতে প্রাণ হারানো পথচারী। তবে পশ্চিমা বিশ্বভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, নিহত মানুষের সংখ্যা সম্ভবত আরও অনেক বেশি হতে পারে।