ফরিদপুরের ৪টি আসনের মধ্যে বিএনপির তিন প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আর জামায়াতের একজন নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির তিনজনের মধ্য হতে বিএনপির শহিদুল ইসলাম বাবুল ও শামা ওবায়েদের মন্ত্রিত্ব নিয়ে তাদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। এদিকে ফরিদপুর সদর আসনের ময়েজ মঞ্জিলের বাসিন্দা চৌধুরী নায়াব ইউসুফকে মন্ত্রী হিসেবে পেতে চান এ আসনের সচেতন মহল।
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা) আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। তাই মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করছেন এ আসনের ভোটার ও তার কর্মী-সমর্থকরা। তাদের দাবি শামা ওবায়েদ প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমানের কন্যা। শামা ওবায়েদ তার নির্বাচনি এলাকায় জনগণের পাশে থেকে ব্যাপক কাজ করেছেন। সেই কারণে ভোটারদের ভালোবাসায় তিনি বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। অনেকে বলছেন- শামা ওবায়েদ মন্ত্রী হয়ে গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে এবার নগরকান্দা-সালথায় আসবেন।
এ বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বিগত দিনে দলের জন্য যেভাবে কাজ করেছি এবং জনাব তারেক রহমানের ৩১ দফা নিয়ে জনগণের ভালোবাসায় আমি এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছে। আল্লাহ সহায় থাকলে আশা করি আমাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হতে পারে। এদিকে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নেতা ও বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩। শহিদুল ইসলাম ৫১ হাজার ৬৩৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি এলাকায় বেশ জনপ্রিয় এবং বিএনপির দুর্দিনে তিনি দলের জন্য সাহসী ভূমিকা পালন করে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। তাই তিনি মন্ত্রিত্ব পেতে এগিয়ে রয়েছেন বলে তার সমর্থকসহ এ আসনের ভোটারদের আশা।
কারণ শহিদুল ইসলাম বাবুল দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে তার নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে অন্য আসনে নির্বাচন করে অল্পদিনে মানুষের মন জয় করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হন। এছাড়া নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমনের সময় হেলিকপ্টার থেকে নেমে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করেন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তার সমর্থকদের দাবি তাকে কৃষিমন্ত্রী করার।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যে উঠে আসছে যারা দলের দুর্দিনে দলের সঙ্গে ছিল এবং বিগত সরকার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছে শুধু তাদের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাবে। সেই ধারণা থেকে ফরিদপুর-৪ আসনের নবনির্বাচিত এমপি শহীদুল ইসলাম বাবুলও হয়তো থাকছেন নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের তালিকায়। এমনটি ধারণা তার কর্মী সমর্থক ও সচেতন ভোটার মহলের।
এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বলেছিলাম, আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি পাথরে ফুল ফুটিয়ে দেখিয়ে দেব। আমি তাই করতে সক্ষম হয়েছি। ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনের মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছে। বিগত স্বৈরশাসক সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।