রবিবার (১২ এপ্রিল) রমনার বটমুলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রমনার বটমুলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
অনুষ্ঠানস্থলে কোনো প্রকার মুখোশ, ব্যাগ ও ধারাল বস্তু নিয়ে আসা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে এবং অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে হবে। কোনো ধরনের ফানুস বা আতশবাজি ফোটানো যাবে না এবং শব্দ দূষণ হয় এমন বাঁশি বাজানো যাবে না।
রমনায় বিকাল ৫টার পর আর প্রবেশ করা যাবে না জানিয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরোয়ার বলেন, ‘অনুষ্ঠানস্থলসমূহে সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য ভোর ৫টায় গেট খোলা থাকবে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করে রমনা পার্ক ত্যাগ করতে হবে।’
রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান সকাল সোয়া ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে। এ অনুষ্ঠানের জন্য অরুণোদয় গেট, রমনা রেস্তোরাঁ গেট ও শিশু পার্কের বিপরীতে অস্তাচল গেট দিয়ে প্রবেশ করা যাবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বৈশাখী শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় শুরু হবে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সরোয়ার বলেন, শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ থানা মোড়-টিএসসি ক্রসিং (রাজু ভাস্কর্য)-ঢাবি মেট্রো স্টেশন- তিন নেতার মাজার-দোয়েল চত্বর ক্রসিং (ইউটার্ন)-বাংলা একাডেমি-টিএসসি হয়ে পুনরায় চারুকলায় গিয়ে শেষ হবে।
পহেলা বৈশাখে রমনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ সময়ে ইভটিজিং প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। গুজব রোধে সামাজিক মাধ্যমে মনিটরিং থাকবে। অনুষ্ঠানস্থলে ধার্য পদার্থ বহন করা যাবে না।
ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তায় অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ স্থাপন করা হবে।
ডিএমপি জানায়, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল ভোর ৫টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রমনা পার্ক (রমনা বটমূল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশ এলাকাসমূহে রাস্তা বন্ধ/রোড ডাইভারশন দেওয়া হবে। ড্রাইভারশন/ব্যারিকেড পয়েন্টগুলো হলো- ১. বাংলামোটর ক্রসিং, ২. হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, ৩. পুলিশ ভবন ক্রসিং, ৪. সুগন্ধা ক্রসিং, ৫. কাকরাইল চার্চ ক্রসিং, ৬. কদম ফোয়ারা ক্রসিং, ৭. হাইকোর্ট ক্রসিং (পশ্চিম), ৮. শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং, ৯. রোমানা ক্রসিং, ১০. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার, ১১. জগন্নাথ হল ক্রসিং, ১২. ভাস্কর্য ক্রসিং, ১৩. নীলক্ষেত ক্রসিং ও ১৪. কাঁটাবন ক্রসিং।
মিরপুর-ফার্মগেট থেকে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন বাংলামোটর ক্রসিং থেকে বামে মোড় নিয়ে মগবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে চলাচল করবে। অথবা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে বামে মোড় নিয়ে মিন্টো রোড ক্রসিং হয়ে চলাচল করতে পারবে। গোলাপশাহ মাজার ক্রসিং ও হাইকোর্ট ক্রসিং হতে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন কদম ফোয়ারা ক্রসিং-ইউবিএল ক্রসিং-নাইটিংগেল ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে যাবে। সায়েন্সল্যাব ক্রসিং থেকে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন মিরপুর রোড দিয়ে আজিমপুর ক্রসিং-চাঁনখারপুল ক্রসিং-বকশীবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে। বিকল্প পথ হিসেবে সায়েন্সল্যাব ক্রসিং থেকে বাটা সিগন্যাল ক্রসিং-কাঁটাবন ক্রসিং হয়ে ডানে-বামে মোড় নিয়ে হাতিরপুল/নীলক্ষেত-পলাশী ক্রসিং দিয়ে চলাচল করবে।
রমনা পার্ক (রমনা বটমূল) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো হলো- ১. নেভী গ্যাপ হতে হলিফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত (রাস্তার উভয় পাশে এক লেনে), ২. মৎস্য ভবন ক্রসিং হতে সেগুনবাগিচা পর্যন্ত এবং শিল্পকলা একাডেমি গলি (শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি), ৩. কাঁটাবন ক্রসিং হতে নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে পলাশী ক্রসিং পর্যন্ত (রাস্তার পশ্চিম পাশে এক লেনে) এবং ৪. আ. গণি রোড এবং সচিবালয় লিংক রোড (রাস্তার উভয়পাশে এক লেনে)।