বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির স্থানীয় কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টনের খবর এলাকায় পৌঁছার পর চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীর মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক উচ্ছ্বাস। দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। বন্দর-কাস্টমস দিয়ে দেশের সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। মোট রাজস্বের উল্লেখযোগ্য অংশের যোগানও দেয় চট্টগ্রাম। এখানকার রাজনীতির আলোবাতাসে বেড়ে ওঠা আমির খসরু কেবল চট্টগ্রামের নন, পুরো দেশের অর্থনীতি সামলাবেন। তার পক্ষে তা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীতে জন্ম গ্রহণ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার বাবার নাম মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ও মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা বেগম চৌধুরী। মাহমুদুন্নবী ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের আইনপরিষদ নির্বাচনে ডবলমুরিং-সীতাকুন্ড আসন থেকে জয়লাভ করেন এবং যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করলে তিনি প্রথমে গণযোগাযোগ মন্ত্রী এবং পরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব লাভ করেন।
আমির খসরু ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্য থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষাজীবন শেষ করে তার বাবার ব্যবসায় যুক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন এবং চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আমির খসরু চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া খসরু চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল, সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (বর্তমানে এটি চট্টগ্রাম-১১) আসন থেকে বিজয়ী হন। পরে আসনটি ছেড়ে দিলে আমির খসরু এ আসন থেকে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন। পরে তিনি একই আসন থেকে ১৯৯৬ সালের ফেব্রয়ারি ও জুনের এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে একই বছরের ১০ অক্টোবর তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আমির খসরুর এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ইস্রাফিল খসরু বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী।