February 2, 2026, 3:03 am
সর্বশেষ সংবাদ:
বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিক্রি হচ্ছে না জান্নাতের টিকিট, বিকাশ নম্বর নিচ্ছে জামায়াত : কামরুল হুদা কিছু লোক ইসলামি লেবাসে ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে : চরমোনাই পীর অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে প্রস্তুত নৌবাহিনী ফুটবল প্রতীককে মানুষ উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন: তাসনিম জারা বিএনপির ভোটাররা টাকায় বিক্রি হয় না : খন্দকার আবু আশফাক জনগণ নির্বাচনে নারী নিপীড়কদের লালকার্ড দেখাবে: ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ জাবিতে ছাত্রদল ও বামপন্থী শিক্ষার্থীদের ঝাড়ু মিছিল অপরাধ যেই করুক, নির্ভয়ে তুলে ধরুন: সাংবাদিকদের জামায়াত প্রার্থী আফতাব প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হলো ‘জাতীয় কবিতা উৎসব’

প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হলো ‘জাতীয় কবিতা উৎসব’

Reporter Name
  • Update Time : Monday, February 2, 2026
  • 3 Time View

মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবাহী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিনে শুরু হলো ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব। ‘সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রুখে দেবে কবিতা’ স্লোগান নিয়ে দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় কবিতা পরিষদ। এবারই প্রথম উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতীয় কবিতা উৎসবের সূচনা করা হয়।

সমাধি চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে কবিরা টিএসসি ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান।
আবহমানকালের বাঙালি সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র, মাজার, বাউলদের আখড়া ও গণমাধ্যমের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কবিরা মুখে লাল কাপড় বেঁধে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তাঁদের হাতে ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও লালন সাঁইয়ের রক্তাক্ত প্রতিকৃতি, জাতীয় কবি কাজী নজরুলের কারারুদ্ধ প্রতীকী ছবি–সংবলিত প্ল্যাকার্ড। তাঁরা সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে অন্ধকারের শক্তির বিরুদ্ধে আলোর ডাক দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর ভাষার গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ এবং এবারের উৎসব সংগীত ‘এ সংগীত নৃত্য কবিতা/এ সম্প্রীতি সাম্যের বারতা’ পরিবেশন করেন।

উৎসবের উদ্বোধন করেন জুলাই গণ-আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, কবিরা কবিতায় মানুষের মনের কথা বলেন।

মানবতার দাবিই সবচেয়ে বড়। এই দাবিকে সামনে রেখে মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবাই মিলে একটি মানবিক দেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধের মতো আর কাউকে প্রাণ দিতে না হয়।
মীর মুস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, শহীদেরা দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাঁদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে সবাইকে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

কবিরা এই কাজে লেখনীর মাধ্যমে জনগণকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ পাওয়া যায় না।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক চেতনা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা। সে কারণে তাঁরা সব মত, আদর্শ, জাতি, গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক পরিসর সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।

ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক তারা সংকীর্ণ বিভাজন ত্যাগ করে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বহুদূর যেতে হবে, এ কারণে সহনশীলতা ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা–সম্মান থাকা প্রয়োজনীয়।

কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, জাতি যখনই কোনো সংকটের সামনে পড়েছে, তখন কবিরা সোচ্চার হয়েছেন। জাতীয় কবিতা পরিষদ কোনো রাজনৈতিক শক্তি নয়, কিন্তু সংকটে সংগ্রামে কবিতা পরিষদ জাতির মুক্তির জন্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সামনে একটি জাতীয় নির্বাচন আসছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কবিরা জনগণকে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, মুক্ত সমাজ গঠনের শক্তির পক্ষে রায় দিতে আহ্বান জানাচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, ১৯৮৭ সালে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রের সড়ক মোহনায়, রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে যাত্রা শুরু করেছিল জাতীয় কবিতা পরিষদ ও জাতীয় কবিতা উৎসবের। পরবর্তী সময়ে এই উৎসব স্থানান্তরিত হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন হাকিম চত্বরে। সেখানে দীর্ঘদিনের সেই আয়োজনে এবার অনুমতি মেলেনি। কারণ সময় বদলেছে। আর সেই বদলে যাওয়া সময়কে আজ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে অন্ধকারের অশুভ শক্তি। যারা আলোর সাম্পানে ভাসমান হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতিকে মেনে নিতে পারে না, আজ তাদেরই আস্ফালন চারদিকে।

কবি মোহন রায়হান আরো বলেন, আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে উদ্যত দক্ষিণপন্থী উগ্র মৌলবাদী অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের জাতীয় কবিতা উৎসব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কবি এ বি এম সোহেল রশিদ, শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কবি শ্যামল জাকারিয়া, ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি মানব সুরত ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কবি নূরুন্নবী সোহেল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ছিল মধ্যাহ্ন বিরতি। এরপর উৎসবের প্রথম দিনের নিয়মিত কর্মসূচিতে আছে পৃথক চারটি পর্বে কবিতা পাঠ।

প্রথম পর্বে পরিষদের উপদেষ্টা কবি মতিন বৈরাগীর সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত কবিদের কবিতা পাঠ। এরপর হয় কবি অনামিকা হক লিলি, কবি শাহীন চৌধুরী ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্বের নিবন্ধিত কবিদের কবিতা পাঠ। সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পীদের আবৃত্তি পরিবেশনা ও রাত সাড়ে ৭টা থেকে আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

আগামীকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে সকাল ১০টায় থাকবে তারুণ্যের গান। এরপর পৃথক তিনটি অধিবেশনে নিবন্ধিত কবিদের কবিতা পাঠ ও ‘৭১ থেকে ২৪ : গণ-আন্দোলনে কবিতার ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার। আলোচনা করবেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম ও কবি সাখাওয়াত টিপু। সন্ধ্যায় থাকবে আমন্ত্রিত কবিদের কবিতা পাঠ, আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পীদের আবৃত্তি এবং রাতে কবিতার গান ও নৃত্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com