March 2, 2026, 12:46 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা বাংলাদেশ ব্যাংকে আহসান মনসুরের স্বেচ্ছাচারিতার দেড় বছর বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ভারতীয় ভিসা নিয়ে মিললো বড় সুখবর ‘ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই অস্ট্রেলিয়ার’ জাতিসংঘকে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসরায়েলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে গভীর উদ্বেগে জামায়াত আমির অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ হওয়া উচিত: নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে মোদি জেরুজালেমে আঘাত হানল ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল এই সং ঘা ত এখনই বন্ধ হওয়া উচিত: নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে মোদি সাদিক কায়েমের ইমামতিতে খামেনির গায়েবানা জানাজা

বাংলাদেশ ব্যাংকে আহসান মনসুরের স্বেচ্ছাচারিতার দেড় বছর

Reporter Name
  • Update Time : Monday, March 2, 2026
  • 0 Time View

আমাদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা স্বচ্ছতা আর জবাবদিহির কথা বলে কিন্তু নিজেরা তার চর্চা করেন না। ড. ইউনূস যেমন গত দেড় বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে। সংবিধান, আইনের বিধিবিধান না মেনে, যা খুশি তাই করেছেন। তেমনি ড. ইউনূস মনোনীত, তাঁর আস্থাভাজন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকে স্বেচ্ছাচারিতার রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগের শেষ নেই। এই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে গভর্নরের পদ হারিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আহসান মনসুরের বের হওয়ার সময়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাঁকে রীতিমতো গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন।

১৮ মাসে একটা মানুষ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কতটা অজনপ্রিয় হতে পারে, আহসান মনসুর তার বড় প্রমাণ। এই সময় গভর্নর হিসেবে অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এই সুশীল। সদ্য বিদায়ি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক বিধি লঙ্ঘন ও স্বার্থের সংঘাতের একাধিক অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা ও সুশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে বিষয়গুলো তদন্তে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

বিএফআইইউ তথ্য পাচারের অভিযোগ : অভিযোগে বলা হয়, গভর্নর সচিবালয় থেকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) নিয়মিত বিরতিতে ফ্রিজকৃত ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসব স্পর্শকাতর তথ্য গভর্নর অফিসে সংরক্ষণের বিধান না থাকলেও তা গভর্নরের পরিবারের সদস্য ও একান্ত সচিবের মাধ্যমে একটি চক্রের কাছে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিনিময়ে বন্ধ হিসাব সচল করার নামে অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

চারটি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ : গভর্নরের চুক্তি অনুযায়ী দুটি গাড়ি ব্যবহারের অধিকার থাকলেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে চারটি গাড়ি ছিল এবং নির্ধারিত জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ সীমার বাইরে ব্যয় হচ্ছে- এমন অভিযোগও তোলা হয়েছে।

বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়ে অনিয়ম : সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতি ও আট বছরের ক্রয়সীমা উপেক্ষা করে প্রায় ২ কোটি টাকার বিলাসবহুল ‘টয়োটা আলফার্ড’ গাড়ি কেনা হয়েছে। সাবেক গভর্নরের ব্যবহারের জন্য কেনা সচল গাড়ি থাকা সত্ত্বেও নতুন এই গাড়ি ক্রয়ে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়া (পিপিআর) অনুসরণ করা হয়নি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

পিএসের ভাতা উত্তোলন : গভর্নরের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে কর্মরত অতিরিক্ত পরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা অফিসের গাড়ি ব্যবহার করেও মাসে ৫০ হাজার টাকা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এটি বিধিবহির্ভূত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ বলে দাবি করা হয়েছে।

ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্সে স্বার্থের সংঘাত : অভিযোগে বলা হয়, গভর্নরের পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স দিতে তাড়াহুড়ো করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনে একক গোষ্ঠীর মালিকানা সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। বোর্ড সভায় কর্মকর্তাদের আপত্তিতে বিষয়টি স্থগিত হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

মেডিকেল সুবিধা অপব্যবহারের অভিযোগ : ব্যাংকের মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ মজুত থাকা সত্ত্বেও ‘নো-স্টক’ সিøপ নিয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কেনার নামে বানোয়াট বিলের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও আনা হয়েছে।

সিএসআর তহবিল ব্যবহারে প্রশ্ন : কাউন্সিলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গার খলিল-মালিক ফাউন্ডেশন এবং টাঙ্গাইলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অনুদান প্রদানে স্বচ্ছতা ও নীতিমালা মানা হয়নি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা থাকা অবস্থায় অনুদান দেওয়া ‘স্বার্থের সংঘাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলে উল্লেখ করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে কয়েকজন কর্মকর্তার বদলিও ঘটে। বিষয়টি ব্যাংকপাড়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর মধ্যেই গভর্নর পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান চাকরিবিধি উপেক্ষা করে পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই উপদেষ্টা পদে পুনর্নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে। সাবেক নির্বাহী পরিচালক আহসানউল্লাহকে বিধি বহির্ভূতভাবে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত আইন ও চাকরিবিধি অনুযায়ী, যেকোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান কিংবা বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আহসানউল্লাহর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পর্ষদের কোনো সভায় বিষয়টি উত্থাপন বা অনুমোদন ছাড়ায় গভর্নর একক সিদ্ধান্তে তার মেয়াদ বাড়িয়ে দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিজ্ঞ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে সাবেক গভর্নর ব্যয়বহুল উপদেষ্টা ও পরামর্শকদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল ছিলেন। এদের অনেকে দেশের ব্যাংকিং পরিবেশ সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত নন। ফলে অনেক পরামর্শ ব্যাংকের বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের শেষবেলায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক আচরণ ও প্রতিকূল কর্মপরিবেশকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যে। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে গভর্নরের কাছে পাঠানো লিখিত অভিযোগপত্রে তাদের ক্ষোভের বিষয়টি উঠে আসে।

কাউন্সিলের চিঠিতে বলা হয়েছিল. বাংলাদেশ ব্যাংক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত ঐতিহ্য হলো- গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত ও স্বচ্ছ যোগাযোগ। কাউন্সিলের দাবি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এ সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যা কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত এক্সিকিউটিভ ফ্লোরের সব প্রবেশদ্বার হঠাৎ করে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শুধু লিফট ব্যবহার করে ওই ফ্লোরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। এই ঘটনা নজিরবিহীন এবং কর্মকর্তাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে বলে তারা মনে করেন। কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, বিরূপ পদোন্নতি নীতিমালা কিংবা কর্মকর্তাদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করতে গভর্নর ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করছেন।

কাউন্সিল জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণের জন্য গত বছরের ১৯ মার্চ গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের কাছে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সদ্য বিদায়ি গভর্নর বলেছিলেন, কাউন্সিলকে সংস্কার কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকে পদশূন্যতার সংখ্যা এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে। চলতি বছরের ৩০ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, ৬ হাজার ২৬০ জন প্রথম শ্রেণির পদের মধ্যে ১ হাজার ৯৩৬টি এখনো শূন্য। সেই সঙ্গে নির্বাহী পরিচালকের ৪টি পদ বহু বছর ধরেই খালি রয়েছে। গত বছরের ১৯ মের পর অতিরিক্ত পরিচালক পর্যায়েও কোনো পদোন্নতি হয়নি এবং গত ৩১ আগস্টভিত্তিক প্যানেল এখনো অনুমোদিত হয়নি। কাউন্সিলের মতে, যোগ্য কর্মকর্তারা অবহেলিত হচ্ছেন এবং পদোন্নতি ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হচ্ছে।

আহসান মনসুর ১৮ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com