শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা মহানগরীর টাউন হল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে আরো বলেন, আপনাদের বিএনপি হওয়ার দরকার নেই, জামায়াত হওয়ার দরকার নেই, গুলশানে লাইন দেওয়ার দরকার নেই, ধানমন্ডিতে যাওয়ার দরকার নেই, এমনকি মগবাজারেও যাওয়ার দরকার নেই। আপনাদের একমাত্র বৈধতা হচ্ছে জনতা।
প্রিয় পুলিশ ভাই, প্রিয় মিলিটারি ভাই, প্রিয় সেনাবাহিনী আপনাদের কাঁধে আজ এক মহান দায়িত্ব এসে পড়েছে, আপনারা কতটা স্বচ্ছ কতটা নিরপেক্ষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারেন সেটার মধ্যেই আপনাদের আস্থা ফিরে আসবে। আপনাদের কোনো দলের গোলামী করার দরকার নাই। জাতি আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে, যেভাবে ৫ আগস্ট আপনারা জনতার কাতারে নেমে এসেছেন ঠিক সেইভাবে ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার পক্ষ হয়ে আপনারা জাতিকে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা তারেক রহমানের বিভিন্ন বক্তব্য শুনতে পাই, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ওনাকে হ্যাঁ ভোট এবং না ভোট নিয়ে কিছু বলতে দেখছি না।
বাংলাদেশ স্পষ্টত দুই ভাগে বিভক্ত মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত, এক ভাগ গোলামীকে বরণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে, আরেক ভাগ আজাদির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। এক ভাগ ভারতীয় আধিপত্যের কাছে মাথা নত করেছে। আরেক ভাগ ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। আমরা জানি আমাদের পথ লম্বা, এ লড়াই অনেক দীর্ঘ। আমাদেরকে এখন সুপ্ত গুপ্ত এ ধরনের তৃতীয় শ্রেণির ভাষা দিয়ে আবার হত্যাযজ্ঞ করে তোলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। গত ১৭ বছর ধরে যারা ভার্চুয়াল দল চালিয়েছে, জুলাই পরবর্তী দেড় বছর অপেক্ষা করেছে দেশে আসার জন্য। তাদের কাছ থেকে আমরা গুপ্ত সুপ্ত লেকচার শুনব না।
কুমিল্লা মহনগরীর জামায়াতের সভাপতি কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, কুমিল্লার ১১টি আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরাসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।