March 10, 2026, 10:39 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিলেন কিমের বোন নেতানিয়াহু নিহতের গুঞ্জন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন বার্তা ভয়ঙ্কর সব হামলাতেও দমেনি ইরান, উল্টো ট্রাম্পকে পিছু হটার পরামর্শ উপদেষ্টাদের যুদ্ধের মাঠে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান জয়ী রাশিয়া! ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে রাশিয়ার জয় দেখছে ইউরোপ নিজস্ব ভূখণ্ড ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ইরাক চীন, রাশিয়াসহ অনেক দেশ যুদ্ধবিরতির জন্য যোগাযোগ করছে: ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্ব তেলবাজারে বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে: আরামকো’র সিইও ইরানের সরকারপতন নির্ভর করছে সেখানকার জনগণের ওপর : নেতানিয়াহু

ভয়ঙ্কর সব হামলাতেও দমেনি ইরান, উল্টো ট্রাম্পকে পিছু হটার পরামর্শ উপদেষ্টাদের

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, March 10, 2026
  • 20 Time View

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার দিকে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে তার কিছু উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে তাকে একটি ‘এক্সিট র‍্যাম্প’ বা সম্ভাব্য প্রস্থানপথ খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযানের অধিকাংশ লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এগিয়ে আছি।’ ট্রাম্পের ধারণা, এই যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে।’

তবে ইরানে চলমান সামরিক হামলা কখন শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

ইরানের জনগণ, যারা বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের সহায়তা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি চান। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি ততটা আগ্রহী নন।

ট্রাম্প বলেন, ‌‘আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চাই, যা বহু বছরের শান্তির পথ খুলে দিতে পারে। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে এখনই বিষয়টা শেষ করে ফেলা ভালো।’

এদিকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়ায় তিনি হতাশ। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান পিছু হটতে রাজি নয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে এবং ইসরায়েল যদি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজে এই সংঘাত থেকে সরে আসা কঠিন হবে।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালায়, তাহলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। এই প্রণালীটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ।

প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুবিধা থাকা অবস্থায় ট্রাম্প সন্তোষজনক বিজয় দাবি করতে না পারা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করবেন না। পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক যৌথ সামরিক হামলার পরও তেহরান কেন আত্মসমর্পণ করছে না—তা নিয়ে ট্রাম্প মাঝে মাঝে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘এই গল্প অজ্ঞাত সূত্রের ভিত্তিতে বানানো নানা আজেবাজে তথ্য দিয়ে ভরা। আমি নিশ্চয়তা দিতে পারি, এসব সূত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককক্ষে উপস্থিত থাকে না।’

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টারা সপ্তাহের সাত দিন, দিনে ২৪ ঘণ্টা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফল রাখতে কাজ করছেন। শেষ পর্যন্ত এ হামলা কবে শেষ হবে, তা নির্ধারণ করবেন সর্বাধিনায়ক।

যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বেশ কিছু অসামঞ্জস্যও দেখা গেছে। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, তিনি ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চান এবং দেশটিতে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। কিন্তু সোমবার তিনি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, এমন কোনো নির্দেশ দেওয়ার কাছাকাছিও তিনি নন। তিনি একদিকে বলেন যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হতে পারে, আবার সঙ্গে সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমরা আরও এগোতে পারি এবং আমরা আরও এগোব।’

বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত আলাপেও উপদেষ্টাদের বলেছেন—যদি যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কাছে নতি স্বীকার না করেন, তাহলে তিনি যুবক খামেনির হত্যাকে সমর্থন করতে পারেন। এই মন্তব্যগুলো এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তেলের দাম দ্রুত বেড়ে আবার কমে গেছে। এতে যুদ্ধের অর্থনৈতিক খরচ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্পের মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু উদ্বিগ্ন রিপাবলিকান নেতা মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ফোনও করেছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুর বলেন, গ্যাস ও তেলের দাম বাড়লে সব কিছুর দামই বাড়ে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগেই চাপের মধ্যে ছিল। এখন এটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com