জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ও ওসমান হাদির পরিবার। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে তারা সেখানে অবস্থান নেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।
ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দল সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে ইনকিলাব মঞ্চ। কিন্তু ইনকিলাবকে সহযোগিতার বেলায় সবাই হাত গুটিয়েছে বারবার। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ও তার স্ত্রী।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে জুমা বলেন, ‘অসহযোগিতা বাড়তে থাকলে ইনকিলাব জনগণের সহায়তা নেবে। সারা দেশের জনগণ নিয়ে যমুনার সামনে বসবে। তখন সামলানোর দায়িত্ব থাকবে সরকারের।’
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা চাই জাতিসংঘের মাধ্যমে ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত হোক। কারণ, ৫৪-৫৫ দিন অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত খুনের পেছনে কারা রয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে আমরা জানতে পারি নাই। অন্তর্বর্তী সরকার চলে যাওয়ার পরে এই খুনের বিচার আদৌ হবে কি না—এ ধরনের একটা আশঙ্কা বোধ করছি আমরা।’
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা গত চার-পাঁচ দিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা সেখান থেকে কোনো ধরনের উত্তর পাইনি। হাদির স্ত্রী কখনও রাজপথে আসেন নাই, তিনিও আজকে এখানে আসছেন। কারণ, তিনি মনে করছেন যে জাতিসংঘের অধীনে যদি এটার তদন্ত না হয় তাহলে হয়তো তার স্বামীর হত্যার বিচার হবে না।’
ইনকিলাব মঞ্চের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে যমুনার সামনে উপস্থিত হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা সরকার থেকে আসেনি। আমরা মনে করি যে সরকার থেকে স্পষ্ট বার্তা আসবে। যেহেতু এই আসন থেকে আমি নির্বাচন করছি। এখানে যে কোনো ন্যায্য দাবি যারা করে- তাদের কাছে আমার যাওয়া উচিত। সেই জায়গা থেকে আমার দায়িত্ববোধ থেকে এখানে আমি এসেছি।’