রমজান শুরু হতেই চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বিভিন্ন বাজারে লেবুর দাম আগের তুলনায় হু-হু করে বেড়ে গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে গত সপ্তাহে প্রতিপিস লেবু বিক্রি হচ্ছিল ১০ টাকায়, এখন তা খুচরা বাজারে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সাধারণ ও নি¤œবিত্ত মানুষের জন্য ইফতারের লেবুর শরবত এখন বিলাসিতার এক পণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা হতাশা ও অবাক চোখে লেবুর দাম দেখছেন।
জোটপুকুর বাজারে লেবু কিনতে আসা খালেক বলেন, আগে ২০ টাকায় দুটি লেবু পেতাম, এখন একই লেবুর জন্য ৬০ টাকা দিতে হচ্ছে। রমজান এলে ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দেয়। এটি আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক কষ্টের।
গোমদন্ডী বুড়িপুকুর পাড় রেললাইন সংলগ্ন বাজারে লেবু কিনতে আসা মানুষের বাসা-বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা সালেহা বেগম বলেন, আমি মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। রোজা রেখে ইফতারে লেবুর শরবত খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও অতিরিক্ত দামের কারণে লেবু কিনতে পারছি না। এক জোড়া লেবুর জন্য যা দিতে হচ্ছে, সেই টাকা দিয়ে আমি এক কেজি চাল কিনতে পারি। তাই লেবু না কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, হঠাৎ করেই লেবুর দাম তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি ও উৎপাদন কমে যাওয়া।আড়তদার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন সুমন জানান, আগে বাগান থেকে প্রতিভাড় লেবু কিনতে খরচ হতো প্রায় দেড় হাজার টাকা, এখন তা প্রায় ৩ হাজার টাকা। ফলে, প্রতিপিস লেবুর ক্রয়মূল্য ১৫ টাকার বেশি পড়ছে। তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
জ্যৈষ্ঠপুরার পাহাড়ি এলাকায় লেবু চাষি মনছুর রহমান বলেন, বর্তমানে গাছে লেবুর উৎপাদন কম, কিন্তু রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়েছে। শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্য আড়তদার শফিউল জানান, এক মাস আগে প্রতিভাড় লেবু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে হচ্ছে ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। প্রতিভাড়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ পিস লেবু থাকে। ফলে, খুচরা বাজারে প্রতিপিস লেবু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই। রমজানজুড়ে ইফতারের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপকরণ হওয়ায় লেবুর চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন কম ও ক্রয়মূল্য বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় একটি পণ্য কিনতেও অতিরিক্ত খরচের চাপ অনুভব করছেন।