নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফেরিঘাট উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এনসিপির ২১ জন এবং বিএনপির ৭ জনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে হাতিয়া থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ।

শুক্রবার বিকেলে দ্বীপের নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট নৌপথে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফেরি সার্ভিস চালুর কৃতিত্ব নিয়ে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়।

এনসিপির অভিযোগ, বিএনপির হামলায় তাদের ২১ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি দাবি করেছে যে তাদেরও ৭ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যায় বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামিমের বাসভবনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।

সন্ধ্যায় এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করলে সংলগ্ন সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের দলে ভিড়িয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। প্রশাসন সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছে। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’

পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে রাত ৮টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, থানার সামনে অবস্থানকারীরা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে এসেছিলেন। আমাদের আশ্বাসে তারা ফিরে গেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।