নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে লাঠি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিল থেকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও এই আসনের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার ওছখালী শহরে এই লাঠি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে তমরুদ্দি ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় এনসিপির নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির এক কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এনসিপির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও একাধিক মামলার আসামি আলাউদ্দিন বাবুকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি প্রার্থী আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছেন। তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছেন। অবিলম্বে এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের প্রধান নির্বাচনী অ্যাজেন্ট ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আলাউদ্দিন রনি বলেন, হাতিয়ায় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে এনসিপি। তারাই আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর ফেরিতে হামলা করেছে এবং সন্ত্রাসীদের নিয়ে লাঠি মিছিল বের করেছে। মিছিল থেকে আমাদের প্রার্থীর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়।
হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, প্রার্থীর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও অফিস ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে হান্নান মাসউদের সমর্থক ও মাহবুবুর রহমান শামীমের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরবর্তীতে এই সংঘাত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।