৯ মাস পর ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও আজ থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। থাকছে রাতযাপনের সুযোগও। তবে দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক এই প্রবাল দ্বীপটিতে যেতে পারবেন না। কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সকাল ৭টায় জাহাজ ছেড়ে যাবে। পরদিন বেলা ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে সেই জাহাজ কক্সবাজারে ফিরে আসবে। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস পর্যটকরা এই ভ্রমণ করতে পারবেন।
সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের বিষয়ে গতকাল রোববার বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। সভায়, পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্যুরিজম বোর্ড, পুলিশ ছাড়াও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) শাহিদুল আলম সমকালকে বলেন, চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়েছে। এর মধ্যে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ নামে তিনটি জাহাজ ১ ডিসেম্বর থেকে যাতায়াত শুরু করবে। সেন্টমার্টিন যাতায়াতে যাতে পর্যটকদের কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা সমকালকে বলেন, একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিককে নিরুৎসাহিত করতে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাটে জাহাজে ওঠার সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যটকদের অ্যালুমিনিয়ামের পানির বোতল ফ্রি (বিনামূল্যে) দেওয়া হবে।
সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে’র সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘তিনটি জাহাজ সকাল পর্যন্ত টিকিট বেচবে। ফলে মোট যাত্রীর সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারছি না।’
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক মহিবুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের জন্য পর্যটকদের ১২টি নির্দেশনা মানতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করা। সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে। এসব নিশ্চিত করার জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের পক্ষ থেকে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক (ভলান্টিয়ার) জেটি ঘাটে অবস্থান করবেন।
শেষ হয়নি জেটির কাজ
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘জেটির কাজ শেষ হয়নি। তবে যাত্রী চলাচলে সমস্যা হবে না।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রতিনিধি মো. আলী হায়দার বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি কাজ শেষ হবে।’