July 4, 2026, 2:16 am
সর্বশেষ সংবাদ:
দুর্নীতির দায়ে মলদোভার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ খামেনির জানাজার আগে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ, শিগগিরই বৈঠকে বসবে দুই নেতা ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে’ খামেনির জানাজায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানায়নি ইরান মেসিদের ম্যাচে ঝড়ের পূর্বাভাস আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি এবার শ্রদ্ধা জানালো সৌদি পাকিস্তানপন্থীদের মন্ত্রী-এমপি করেছে বিএনপি, ক্ষমা চাইব কেন: গোলাম পরওয়ার জামায়াত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয় : মির্জা ফখরুল চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা-প্রস্তাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: জয়সওয়াল বাংলা কিউআর কোডে দুই দিনে ২২ কোটি টাকার লেনদেন

সরকার কড়াইলের বাসিন্দাদের নাগরিক অধিকারের তোয়াক্কা করছে না : সাকি

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, December 2, 2025
  • 154 Time View
188

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ঢাকা শহরের চালিকাশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানকার মানুষঅথচ এই সরকার বা রাষ্ট্র তাদের জন্য ন্যূনতম কোনো দায়-দায়িত্ব নিচ্ছে নানাগরিক হিসেবে তাদের যে অধিকার ও মর্যাদা, তার কোনো তোয়াক্কা সরকার করছে না।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তির রাহাত আলী শাহ (র) খানকাহ প্রাঙ্গণের পাশে স্থাপিত গণসংহতি আন্দোলনের রিলিফ ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, এটি একটি দুর্যোগ। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উচিত ছিল দ্রুত এখানকার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলা এবং খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষগুলোর জন্য অবিলম্বে তাঁবু খাটিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা। তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিই এই কারণেই যে, জনগণ যখন বিপদে পড়বে, তখন সরকার এগিয়ে আসবে। কিন্তু আমরা সরকারের সেই উদ্যোগ বা নাগরিকের মর্যাদা রক্ষার কোনো ব্যবস্থা এখনো দেখতে পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, অবিলম্বে কড়াইল বস্তির ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে প্রত্যেকের খাবার, থাকার জায়গা, শীতবস্ত্র, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। একইসাথে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসহ দ্রুততম সময়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান সাকি।

তিনি বলেন, যতদিন না কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারেন এবং নিজেদের বাসস্থান গুছিয়ে নিতে পারেন, ততদিন পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এটি দুর্যোগকালীন সময়ের অত্যাবশ্যকীয় কাজ।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, ঢাকা শহর এমন একটি অবস্থায় পরিণত হয়েছেযেখানে ধনীদরিদ্রের বৈষম্য অত্যন্ত প্রকটনগ্ননীতিনির্ধারকরা মনে করেন ঢাকা শহর শুধু ধনীদের জন্য, অথচ শ্রমজীবী মানুষের শ্রম ছাড়া এই শহর অচল। তাদের এই গণবিরোধী চিন্তা থেকেই বস্তিবাসীদের আবাসন ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকে। কড়াইল বস্তিতে এত বড় দুর্ঘটনার পরেও জাতীয় পর্যায়ে বা গণমাধ্যমে যে ধরনের আলোচনাসমাধানের উদ্যোগ দেখা যাওয়ার কথা ছিল, তা দেখা যাচ্ছে নাঢাকা শহরের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, যাদের শ্রমে শহর চলে- তাদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, কড়াইল বস্তিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ বসবাস করেন। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা না থাকলে সরকারের থাকার যৌক্তিকতা কী? শুধু বড় বড় দালান থাকলেই শহর উন্নত হয় না। এখানকার ছাত্র-তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং সাধারণ মানুষের জীবন আজ হুমকির মুখে। গণসংহতি আন্দোলন সর্বদা মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার লড়াইয়ে আছে। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে আছি, কিন্তু আমাদের একার পক্ষে সব করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র ও সরকারকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কড়াইল বস্তির ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা; গণসংহতি আন্দোলনের কড়াইল রিলিফ ক্যাম্পের সংগঠক শাহীদা আক্তার, মোহাম্মদ মোতালেব, আবুল কালাম, আবদুর রহিম; দলের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভুইয়া, আলিফ দেওয়ান, মনিরুল হুদা বাবন, আমজাদ হোসেন, সাইফুল্লাহ সিদ্দিক রুমন, তাহসিন মাহমুদ, আবু রায়হান খান; বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরের নেতা ইয়াসিন খান প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন শেষে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেন জোনায়েদ সাকিসহ দলের নেতাকর্মীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com