July 1, 2026, 11:18 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
বাংলা কিউআর কোড লেনদেনে নতুন নির্দেশনা পানিপ্রবাহ ব্যাহত করার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’: পাকিস্তান ঢাকার গাড়ির মালিকদের জন্য দুঃসংবাদ, চালু হচ্ছে ‘যানজট শুল্ক’ শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে আপাতত কোনো অগ্রগতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ ‘এক মাস পর জুলাইযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেব, পার পিস ৫০ টাকা’ গণভোটের রায় না মানায় রাজপথে বিরোধী দল: জামায়াত আমির গণভোটের রায় না মানায় রাজপথে বিরোধী দল: জামায়াত আমির চীনের ‘টু প্লাস টু’ ও করিডর প্রস্তাব বিবেচনা করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবার ঢাকা থেকে সারা দেশের এইচএসসি পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র?

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, January 15, 2026
  • 159 Time View
161

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ওয়াশিংটন যদি ইরানের অভ্যন্তরে কোনো হামলা চালায়, তবে পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইরানের এই হুমকির পরপরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই সেনা সরানোর ঘোষণা এল।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তার মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই অভিযান শুরু হতে পারে।

একই সুর শোনা গেছে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের কণ্ঠেও। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, যদিও এর ব্যাপ্তি বা সঠিক সময় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ থেকেও কর্মী প্রত্যাহার শুরু হয়েছে বলে দোহা নিশ্চিত করেছে। যদিও কূটনীতিকদের মতে, গত বছরের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগের পরিস্থিতির মতো বড় কোনো সেনা সমাবেশের লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির চরম অবনতিই এই উত্তেজনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে গত দুই সপ্তাহে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে এই সংখ্যা ২৬০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই এই বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো একে ইরানের সমসাময়িক ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস দমন-পীড়ন বলে অভিহিত করেছেন।

ইরান সরকার এই পরিস্থিতির জন্য শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে আসছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মুসাভি অভিযোগ করেছেন, বিদেশি শত্রুরা এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে।

তেহরানের দাবি, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করছে। তবে ওয়াশিংটন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। একদিকে মার্কিন ঘাঁটি থেকে কর্মী প্রত্যাহার এবং অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক হামলার গুঞ্জন—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com