বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডনে প্লেজার ট্রিপে ছিলেন না, জরুরি অবস্থার অনৈতিক সরকার ও পরবর্তীতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতন ও দমন নিপীড়নের শিকার হয়ে নির্বাসনে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। যারা তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থান নিয়ে খোঁটা দেন, তারা জ্ঞানপাপী।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গোবড়াকুড়া স্থল বন্দরে আয়োজিত নির্বাচনী শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শ্রমিক সমাবেশে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, নবীন কিছু রাজনীতিবিদ শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
যিনি তারেক রহমানকে বাস থেকে নেমে অলি গলি চিনতে বলছেন, তারা অলি গলি, গ্রাম-শহর চেনেন কি না- তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তারা অবশ্য দেশের গ্রাম-শহর না চিনলেও গণ-অভ্যুত্থানকে ব্যবহার করে সরকারের উপদেষ্টা হয়ে অবৈধ পথে দুই হাতে হাজার হাজার কোটি টাকা কামাইতে ভুলেননি।
তিনি বলেন, তারেক রহমান তাদের থেকে বেশি বাংলাদেশের গ্রাম-শহরের অলি গলি চেনেন, নির্বাসিত জীবনের প্রতি মুহূর্তে তিনি দেশের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, এখনও আছেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান এবং বিএনপির ওপর তাদের এই আক্রমণের হেতু জনগণ জানে।
তাদের খারাপ ইমেজের কারণে বিএনপি সম্মত না হওয়ায় নির্বাচন না করতে পেরে এখন বিষোদগার শুরু করেছে।
সমাবেশে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রসঙ্গে গভীর সম্মান ও সহানুভূতি জানিয়ে বলেন, শ্রমিকরা এ দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের ঘামেই সচল থাকে কলকারখানা, বন্দর ও সীমান্ত বাণিজ্য। অথচ দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে, শ্রম আইন বাস্তবায়ন করা হবে এবং শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা হবে।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আরো বলেন, শহীদ জিয়া শ্রমিকবান্ধব রাজনীতির সূচনা করেছিলেন, তিনি নিজেকে একজন শ্রমিক পরিচয় দিতেন। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বন্দরভিত্তিক উন্নয়ন এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিল জোরদার করা হবে।
তিনি শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে একটি শ্রমিকবান্ধব, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি হলুয়াঘাটে দুইটি স্থল বন্দরে বারো মাস আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা, শ্রমকদের লোড-আনলোড মজুরি বৃদ্ধি, ঝুঁকি তহবিল, উৎসব ভাতা, শ্রমিক কল্যাণ ভবন প্রতিষ্ঠা হবে।
শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল আলম সামস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলিমুল ইসলাম, সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান বক্তব্য দেন।
সমাবেশে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা, স্থল বন্দরের শ্রমিক নেতা এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও এমরান সালেহ প্রিন্স বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার একাডেমি মোড়ে গারো সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পরে ভুবনকুড়া ইউনিয়নের লক্ষিকুড়া, মজরাকুড়া, মহিষলেটি, তেলিখালী, চিনির মোড়, বিকেলে সাকুয়াই ইউনিয়নের ভাট্টা বাজার, সন্ধ্যায় সাকনাইট বাজার, সাধুর বাজার, মহিলা বাজারে পথসভা, গণসংযোগ ও বন্দেরপাড়া হরিবাসরে হিন্দু নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
রাতে তিনি হালুয়াঘাটের টানা ব্রিজ এলাকায় অটো শ্রমিক ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় ও ধারা ইউনিয়নের আশ্রমপাড়া গ্রামে উঠান বৈঠকে যোগ দিয়ে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।