শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
রেজাউলের বৃদ্ধ বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ নির্বাক দৃষ্টিতে বাড়িতে আগত স্বজনদের দিকে তাকিয়ে আছেন। কোনো কথা বলছেন না তিনি। বাড়ির আঙিনায় ছেলের কবর খোঁড়া হয়েছে। ছেলের শোকে তার চোখের জলও যেন শুকিয়ে গেছে।
রেজাউলের সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। আট বছর বয়সী মেয়ে তার বাবা নেই কিছুটা বুঝতে পারলেও অবুঝ সন্তান এখনও বুঝতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা গ্রামের বাসিন্দা নিহত রেজাউলের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ৪২ বছর বয়সী রেজাউল ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন।
রেজাউলের মৃত্যুর খবরে ভোর থেকে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীরা বাড়িতে ভিড় করছেন। কেউ কাঁদছেন, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আহাজারি করছেন। তাদের আহাজারি ও বিলাপে চারিদিকে যেমন বাতাস ভারি হয়ে গেছে। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছেন না।
বাড়ির ভেতর থেকে মহিলাদের কান্নার করুণ আওয়াজ ভেসে আসছিল। আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বাড়িতে এসে রেজাউলের পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
রেজাউলের শ্বশুর কাকিলাকুড়ার বাসিন্দা হাফেজ মো. আবু বকর বলেন, ‘আমি হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসি চাই। যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে; তাদের বিচার চাই। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে এখন কে দেখবে?
প্রসঙ্গত, বুধবার বেলা ৩টার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে’ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডায় জড়ান; এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অনুষ্ঠানটি ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।