জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জনগণের সম্পদ। এই অর্থ ফেরত আনার জন্য প্রয়োজন হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্টেডিয়ামে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এরপর ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরেক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের এক নেতা আমাদের গুপ্ত বলেছেন, এটি পুরোনো কাসুন্দি। এটি ঘেঁটে কোনো লাভ নেই। এ বক্তব্যকে মাফ করে দিলাম।
নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে মা-বোনেরা ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপতিষ্ঠানে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন। তাদের সম্মানের নিশ্চয়তা থাকবে।
তিনি বলেন, ভোটাধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের পেশি শক্তি বা অনিয়মের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। কেউ যদি ভোট কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা চালায় বা ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে। জুলাই আন্দোলনে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা বিতাড়ন সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতেও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে যুবকদের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় জামায়াতের আমির বৃহত্তর ফরিদপুরের জামায়াত সমর্থিত ঐক্যজোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তাদের বিজয়ী করার জন্য নেতাকর্মীদের দাঁড়িপাল্লা এবং শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর জেলা শাখার নায়েবে আমির আবু হারিস মোল্যার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর জোট সমর্থিত প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্লা, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি সরাফত হোসেন, বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি সৈয়দ সাজ্জাদ আলী, পৌর জামায়াতের মাওলানা নিয়ামুল হাসান প্রমুখ।