নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া এবং টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া নিয়ে যে ধোঁয়াশা ও শাস্তির শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেছে। লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিসিবি সভাপতির বৈঠকের পর মিলেছে বড় সুখবর। সোমবার রাতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করেছে, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) কোনো ধরনের আর্থিক জরিমানা বা ক্রিকেটীয় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে না।
বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের অবস্থান নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার ওপর ভিত্তি করে। লক্ষ্য কোনো সদস্য দেশকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সহযোগিতামূলক সহায়তা নিশ্চিত করা।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুর্ভাগ্যজনক হলেও এর জন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বিসিবির অধিকার রয়েছে প্রয়োজনে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) শরণাপন্ন হওয়ার। বর্তমান আইসিসি বিধি অনুযায়ী এই অধিকার বহাল রাখা হয়েছে। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, জাতীয় দলের এই অনুপস্থিতি বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
শাস্তি মওকুফের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য বড় সুখবরও দিয়েছে আইসিসি। ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা রয়েছে বাংলাদেশের। তবে তার আগেই, ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একটি একক আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আবারও বিশ্ব আসরের স্বাগতিক হতে যাচ্ছে টাইগাররা।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি কোনো সমস্যা দিয়ে বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট শক্তির অবস্থান নির্ধারিত হয় না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হতাশাজনক হলেও, একটি ক্রিকেট জাতি হিসেবে তাদের প্রতি আইসিসির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বাংলাদেশে ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ভবিষ্যৎ সুযোগ বাড়ানোর দিকেই আমাদের মনোযোগ।’