দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বড় একটি অংশের দাবি, আসনটি ধরে রাখতে হলে জিয়া পরিবারের কাউকে প্রার্থী করা উচিত। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।
জিয়া পরিবারের বাইরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।
দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের হিসাব বিবেচনায় নিলে জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দিলে বিজয় কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডা. আফসারুল হাবীব বলেন, আসনটি রক্ষা করতে হলে জিয়া পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া সবচেয়ে ভালো হবে। তবে সেটি সম্ভব না হলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সভাপতি ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলকে প্রার্থী করা যেতে পারে।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, জিয়া পরিবারের বিকল্প নেই।
জেলা বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী রোকন তালুকদার মনে করেন, জামায়াত যেভাবে ভোটের মাঠ সাজিয়েছে, তাতে জিয়া পরিবারের বাইরে প্রার্থী দিলে ঝুঁকি থাকবে।
বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বলেন, নিশ্চিত বিজয়ের জন্য জিয়া পরিবারের সদস্যদেরই মনোনয়ন দেওয়া উচিত। একই মত দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ-উন-নবী সালাম ও কে এম খায়রুল বাশার।
তারা জানান, যেহেতু সদরের মানুষ দলের চেয়ারম্যানকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, সেহেতু উপনির্বাচনে অন্য নেতার পক্ষে ভোট চাওয়া কঠিন হতে পারে।
জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারাও প্রায় একই মত দিয়েছেন। তারা জানান, জিয়া পরিবারের বাইরে বিবেচনায় এলে নির্বাচনী সময়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের মধ্যে ডা. পাভেল ও রেজাউল করিম বাদশা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে।
বগুড়া-৭ আসনের কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, মনোনয়ন না পাওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেননি। ফলে তার প্রতি জনআস্থা কমেছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে লালু জানান, সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, দলের চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ীই তিনি কাজ করবেন।
ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান। অন্যদিকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান।