পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এক চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়ে বসল। ট্রাম্পের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনই ‘প্রস্তুত নয়’।
সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস রাইট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি ‘সাময়িক বিপর্যয়’। ট্রাম্প আগে নৌ-পাহারার আশ্বাস দিলেও রাইট সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, এটি এখনই সম্ভব নয়।
পতনের ঝুঁকিতে নেই ইরান, মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টপতনের ঝুঁকিতে নেই ইরান, মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট
তাঁর দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবশক্তি এখন ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং তাদের অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংস করতে নিয়োজিত। রাইটের মতে, আমেরিকা চায় ইরানের মিসাইল তৈরি এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষমতা চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে। তিনি এই সংকটকে ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, দীর্ঘমেয়াদী লাভের জন্য এইটুকু সাময়িক কষ্ট আমাদের সইতেই হবে।
এদিকে বাবার মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে মোজতবা খামেনেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। একটি লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, জনগণের ইচ্ছা হলো একটি কার্যকর ও প্রতিরোধমূলক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখা। হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার কৌশল অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।
ইরানি সামরিক বাহিনী তো এক কদম এগিয়ে আমেরিকাকে খোঁচাও দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী যদি তেলের জাহাজ পাহারা দিতে আসে, তবে তারা তাকে ‘স্বাগত’ জানাবে, যা মূলত সংকীর্ণ এই জলপথে মার্কিন বাহিনীর ওপর সরাসরি হামলার এক প্রচ্ছন্ন হুমকি।
যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছেযুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামের গ্রাফ এখন যেন রোলার কোস্টার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছিল ৭০ ডলার, যা গত রবিবার ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। বর্তমানে এটি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ‘ইয়ো-ইয়ো’ খেলছে।
আমেরিকার ভেতরেও এর আঁচ লেগেছে। এক মাস আগে গ্যালন প্রতি পেট্রোলের দাম যেখানে ২.৯৪ ডলার ছিল, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৬০ ডলারে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুক্তি বরাবরের মতোই আলাদা। সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক। তাই তেলের দাম বাড়লে আমাদের প্রচুর লাভ হচ্ছে! যদিও পরে তিনি যোগ করেন, তাঁর আসল লক্ষ্য হলো ইরানের মতো এক ‘শয়তান সাম্রাজ্য’কে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে রুখে দেওয়া।
উল্লেখ্য, এই সপ্তাহের শুরুতে জ্বালানি সচিব রাইট ভুলবশত পোস্ট করেছিলেন, মার্কিন নৌবাহিনী একটি জাহাজকে পাহারা দিয়ে পার করে দিয়েছে। কিন্তু পরে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে, সেই দাবি ছিল মিথ্যা। কেন এই ধরণের ভুল তথ্য ছড়ানো হলো এবং পরে তা কেন সরিয়ে নেয়া হলো, তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রথম বার্তাতেই ইরানের নতুন নেতার কঠিন হুঙ্কারপ্রথম বার্তাতেই ইরানের নতুন নেতার কঠিন হুঙ্কার
হরমুজ প্রণালীতে এই অচলাবস্থা কতদিন চলবে, তা নিয়ে নিশ্চিত নয় কেউ। তবে পেন্টাগন যেখানে জাহাজ পাহারা দিতে পিছপা হচ্ছে, সেখানে তেলের বাজার যে আরও অস্থিতিশীল হবে, তা বলাই বাহুল্য।