ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে যেসব লজিস্টিক ও সেবা কেন্দ্র সহায়তা দিচ্ছে, সেগুলো এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে এই যুদ্ধজাহাজটি সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দরে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার আইআরজিসির অধীনস্থ খতম আল-আন্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, লোহিত সাগরে মার্কিন পারমাণবিক শক্তিচালিত এই বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য সরাসরি হুমকি।
তিনি বলেন, ‘উল্লিখিত ক্যারিয়ার গ্রুপকে লোহিত সাগরে যে সব লজিস্টিক ও সেবা কেন্দ্র সহায়তা দিচ্ছে, সেগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।’
সতর্কবার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু যুদ্ধজাহাজটিই নয়—বরং এর অপারেশন চালু রাখতে যে সহায়ক অবকাঠামো কাজ করছে, যেমন রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা ও সরবরাহ শৃঙ্খল—সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু ধরা হবে।
১০০ হাজার টন ওজনের এই মার্কিন সুপারক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড গত ৬ মার্চ সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরে প্রবেশ করে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি জোরদারের অংশ হিসেবে এটি মোতায়েন করা হয়।
চীনের বাণিজ্যিক জিওস্পেশিয়াল প্রতিষ্ঠানে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, জাহাজটি সৌদি উপকূল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে কার্যক্রম চালাচ্ছিল এবং সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী এটি জেদ্দার দিকে আরও কাছে সরে এসেছে।
এই বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপও রয়েছে।
২০১৭ সালে কমিশন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের প্রথম অপারেশনাল মিশন। ইতোমধ্যে জাহাজটি সমুদ্রে ২৫৫ দিনেরও বেশি সময় কাটিয়েছে।