April 2, 2026, 4:43 am
সর্বশেষ সংবাদ:
অর্ধশতাব্দী পর চাঁদের দিকে মানুষের যাত্রা বিএনপিকে জামায়াত নেতার সতর্কবার্তা: ‘জনগণের পালস্ বুঝতে না পারলে আবারও দেশ ছেড়ে যেতে হতে পারে’ ভূমি ভবনের সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দীন বাংলাদেশের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র দুই কারখানা থেকে ৬ হাজার লিটার তেল জব্দ, জরিমানার পর ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধা যুদ্ধবিরতি না, পুরো যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চাই: আরাঘচি ভূমধ্যসাগরে অনাহারে মৃত্যু হলো সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মাধবপুরে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, তেল লুটপাটে স্থানীয়দের ভিড় প্রসিকিউশন কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরার এক দিনের ফুটেজ গায়েব: প্রসিকিউটর আড়াইহাজার থানা থেকে আসামি পলায়ন, সাব-ইন্সপেক্টর ক্লোজড

ভূমধ্যসাগরে অনাহারে মৃত্যু হলো সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, April 2, 2026
  • 5 Time View

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই নৌকায় মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের সঙ্গে ওই তরুণও ছিলেন। তাঁর নাম মহিবুর রহমান (২০)। ছেলের শোকে কাতর মা শয্যাশায়ী, আর ছোট ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মহিবুর রহমানের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঘাগলাজুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম নুরুল আমিন, মায়ের নাম মহিমা বেগম। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মহিবুর ছিলেন বড়। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। তাঁর আয়েই চলত বিশাল সংসার।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। দালাল তাঁর কোনো খবর নিশ্চিত করেনি। পরে সোমবার একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন। দেশ থেকে মহিবুর ও মারুফ আহমদ নামের ওই যুবক একই সঙ্গে গিয়েছিলেন। উদ্ধারের পর মারুফ এখন গ্রিসের একটি ক্যাম্পে আছেন। তাঁর ভাষ্য, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমেই মারা যান মহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়।

মহিবুর রহমানের চাচাতো ভাই ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সুনু মিয়া বলেন, মহিবুর চার মাস আগে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। এরপর সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া যান। মাঝখানে তিনি খুব কষ্টে আছেন জানিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছিলেন পরিবারের কাছে।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা এলাকার নবী হোসেনের মাধ্যমে তিনি গ্রিসে যেতে চেয়েছিলেন।

সুনু জানান, নবী হোসেন লিবিয়ায় আছেন। দেশে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নান সব লেনদেন করেছেন। ছেলেকে গ্রিসে পাঠাতে দরিদ্র নুরুল আমিন জমি বিক্রি করেছেন, মহাজনি সুদে টাকা এনেছেন পাঁচ লাখ। মোট ১৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে দালালকে। রাজমিস্ত্রির কাজের সুবাদে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নানের পরিচয় হয়। পরে মন্নানই মহিবুরকে গ্রিসে যেতে উৎসাহিত করেন।

মহিবুরের মৃত্যুর খবরে তাঁর মা শয্যাশায়ী। তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছোট ভাই হাফিজুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বুধবার পাঠানো হয়েছে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ছাতক থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বুধবার বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি। আমাকে কেউ জানায়নি।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন ছিলেন। এখন ছাতক উপজেলার আরেকজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানাল পরিবার।

ভূমধ্যসাগরের এই মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের দুটি থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। জগন্নাথপুর থানায় পাঁচজন এবং দিরাই থানার মামলায় আসামি আছেন চারজন। ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া দুই তরুণের বাবা সোমবার রাতে এই দুটি মামলা করেছেন। আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ লিবিয়া, গ্রিস ও ইতালিতে রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com