ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রায় ৭০ লাখ ইরানি সামরিক বাহিনীতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
গালিবাফ বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে আক্রান্ত হলে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। দেশের প্রতিরক্ষা হুমকির মুখে পড়লে প্রত্যেক নাগরিকই ইরানি সৈনিকের মতো দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে চালানো একটি শক্তিশালী জাতীয় প্রচারণা লাখো মানুষকে দেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অস্ত্র হাতে নেওয়ার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে।
ইরানের স্পিকার বলেন, ইরানিদের দেশপ্রেম কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অতীতেও তারা জীবন উৎসর্গ করেছে এবং প্রয়োজনে আবারও তা করতে প্রস্তুত।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার জবাব সম্মিলিতভাবে দেওয়া হবে। ‘আমাদের ঘরে এলে পুরো জাতির মুখোমুখি হতে হবে,’—এমন হুঁশিয়ারির পাশাপাশি তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘এসে দেখো’।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতিমি। তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালানোর চেষ্টা করলে ‘একজন সেনাও যেন বেঁচে না ফিরতে পারে’।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার-মাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাকে অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়।
এ সময় তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ যদি স্থল অভিযান চালায়, তাহলে একজন সেনাকেও বাঁচিয়ে রাখা হবে না।
তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষের গতিবিধি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং সঠিক সময়ে যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি