August 18, 2026, 2:53 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
জিয়া ও খালেদার সমাধিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যদের শ্রদ্ধা সরকার বদলেছে, রাষ্ট্র কি বদলেছে? স্থানীয় সরকারের ৫ নির্বাচন চলতি অর্থবছরে: শাহে আলম স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলতি অর্থবছরেই: শাহে আলম খিলক্ষেতের সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় মেজর সাদিক গ্রেফতার জ্বালানি ও ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুদ্ধকালীন নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় ১৮০ দিনে সরকারের যত পদক্ষেপ থানা হাজতে আ.লীগ নেতার ভিডিও, ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার রাশিয়ার নির্বাচনে নিষিদ্ধই থাকছে বিরোধী দল, উপপ্রধানের কারাদণ্ড

এবার একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধের শঙ্কা

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, April 4, 2026
  • 176 Time View
217

১৩ এপ্রিলের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে আসতে পারে ১ লাখ টন, সৌদি আরবে আটকা জাহাজটিও দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

দেড় মাসের বেশি সময় ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের চালান না আসায় কাঁচামাল সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)। সহসা ক্রুড অয়েলের নতুন চালান দেশে এসে না পৌঁছালে শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এটি চালু রাখতে বিকল্প উৎস মালয়েশিয়া থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

চলতি মাসের ১৩ তারিখের মধ্যে ক্রুড অয়েলের চালানটি দেশে এসে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সঠিক সময়ে এ চালান আনতে পারলে ইআরএল বন্ধ করতে না-ও হতে পারে বলে বিপিসি সূত্রে জানা গেছে।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি চালু রাখার সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মালয়েশিয়ার একটি উৎস থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আনার প্রক্রিয়া চলছে। দু-এক দিনের মধ্যে এলসি খোলা হয়ে গেলে জাহাজ ভাড়া করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আশা করছি আগামী ১০-১৩ এপ্রিলের মধ্যে চালানটি দেশে আনা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে হয়তো ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধের প্রয়োজন না-ও পড়তে পারে। আমরা এই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছি। তিনি জানান, এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে সৌদি আরবে আটকে পড়া ক্রুড অয়েলবোঝাই জাহাজ নরডিক পোলাক্সও দেশে আনার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটিতে ১ লাখ টনের মতো ক্রুড অয়েল রয়েছে।

সাধারণত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতে এ দুই দেশের বিকল্প হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে একটি চালান আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রায় ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে এসেছিল। এরপর থেকে গতকাল পর্যন্ত আর কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ পৌঁছায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ অয়েল করিডর হিসেবে খ্যাত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ পথে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। বাংলাদেশের অপরিশোধিত জ্বালানিও আসে এ পথেই। ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য বিপিসি সাধারণত প্রতি দুই মাসে ক্রুড অয়েলের তিনটি চালান আমদানি করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট দেখা দেওয়ার পর দুটি চালান আমদানি করা সম্ভব হয়নি। সেজন্যই দেখা দিয়েছে কাঁচামালের সংকট। ইস্টার্ন রিফাইনারির দৈনিক শোধন ক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। গত ৩০ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার টন ক্রুড অয়েল মজুত ছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, এই মজুত দিয়ে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, দৈনিক পরিশোধন কমিয়ে মজুত আরও কিছুদিন ধরে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাতকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া দেশের একমাত্র তেল শোধনাগারের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত শোধনাগারটিতে ডিজেল ছাড়াও এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, কেরোসিন ন্যাপথা, বিটুমিনসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি ও উপজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় কিছুটা হলেও চাপ তৈরি হবে। এটি মোট চাহিদার ২০ শতাংশের মতো জ্বালানির জোগান দিয়ে থাকে। দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৬৮ লাখ টন। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পরিশোধিত তেলের দামের চেয়ে কম। তাই পরিশোধন বন্ধ হয়ে গেলে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির মহাব্যবস্থাপক (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রোল) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কাঁচামালের যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে ১০-১২ এপ্রিল পর্যন্ত চালানো যাবে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ক্রুড অয়েলের চালানটি এসে গেলে হয়তো বন্ধ করার প্রয়োজন পড়বে না। আর চালানটি আসতে কিছুটা দেরি হলে অল্প কিছুদিনের জন্য হয়তো প্ল্যান্ট বন্ধ রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে দেশে জ্বালানি তেলের তেমন বড় রকমের সমস্যা হবে না। রিফাইনারি বন্ধ নতুন কিছু নয়। প্রতি বছর ওভারহলিংয়ের জন্য এক-দুই মাস এমনিতেই বন্ধ রাখতে হয়। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com