August 18, 2026, 1:11 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
জ্বালানি ও ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুদ্ধকালীন নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় ১৮০ দিনে সরকারের যত পদক্ষেপ থানা হাজতে আ.লীগ নেতার ভিডিও, ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার রাশিয়ার নির্বাচনে নিষিদ্ধই থাকছে বিরোধী দল, উপপ্রধানের কারাদণ্ড রাজস্ব সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের অগ্রযাত্রায় মেধাবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন বাসযোগ্য নগর গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: ডিএনসিসি প্রশাসক মার্কিন মিত্র ওমানকে বো/মা মেরে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান ৮৮২ বিলিয়ন টাকা

Reporter Name
  • Update Time : Friday, May 22, 2026
  • 129 Time View
151

বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো (এসওই) ২০২৪ সালের এক বছরেই জাতীয় কোষাগার থেকে প্রায় ৮৮২ বিলিয়ন টাকা তুলে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমাবনতিশীল আর্থিক অবস্থা ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠেছে, এমন এক সময়ে যখন বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই রাজস্ব আদায় হ্রাস, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সরকারি অর্থের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন।

এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান লোকসান এমন সম্পদ গ্রাস করছে যা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা যেত।

আজ নগরীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক কর্মক্ষমতা ও রাজস্ব ঝুঁকি’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির ওপর এক কর্মশালায় এই ফলাফলগুলো উপস্থাপন করা হয়।

এই সমীক্ষাটি বাংলাদেশের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর সহায়তায় ‘উন্নত সেবার জন্য সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ (এসপিএফএমএস)’ প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অ-আর্থিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত লোকসান দাঁড়ায় ৪৪১ বিলিয়ন টাকা। একই সময়ে ভর্তুকি ও উন্নয়ন সহায়তাসহ সরকারের মোট নিট আর্থিক সহায়তা বেড়ে প্রায় ৮৮২ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতেই সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) একাই ৪৪৪ বিলিয়ন টাকার বেশি লোকসান করেছে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে উচ্চ ক্ষমতা ভাড়া পরিশোধ এবং উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম ট্যারিফ নির্ধারণকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবিত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি এবং করপোরেট সুশাসনের দুর্বলতা খাতটির আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

বড় লোকসানি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও রয়েছে বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ। পাশাপাশি সার, চিনি ও পাট খাতের কয়েকটি উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানও ধারাবাহিক লোকসানে রয়েছে।

গবেষণায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় গভীর সুশাসন সংকটের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। খ-িত আইন, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং আর্থিক স্বচ্ছতার অভাবকে দুর্বল পারফরম্যান্সের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংকট উত্তরণে প্রতিবেদনে বাণিজ্যিকভাবে সক্ষম প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, আর্থিক তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং একচেটিয়া খাতে ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়-এমন প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে বেসরকারিকরণ বা বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসান খালেদ ফয়সাল ও রাহিমা বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশীদ আলম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com