July 1, 2026, 5:23 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
জামায়াতের ছায়া বাজেট আর পাস হওয়া বাজেট কাছাকাছিই: শফিকুর রহমান ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষের ছাত্রদলের ১৭ বছরের আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই অভ্যুত্থানে: রিজভী বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা স্বাধীনতার বিরোধিতার দায়ে বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত: গোলাম পরওয়ার বিসিবির বর্তমান কমিটিতে ক্রিকেট গতিশীল হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র বিতরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর বাজেট বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হবে ব্যাংকিং খাত: জামায়াত এমপি জাতীয় সংসদে আইনজীবীর পোশাকে রুমিন ফারহানা, সংসদে আলোচনা

৫ আগস্টে বিতাড়িতদের সাথে এরা তলে তলে খাতির শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, May 23, 2026
  • 45 Time View
64

নিউজ ডেস্ক:
বিরোধীদলের প্রতি ঈঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখন যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে- খবর নিয়ে দেখেন ওই ৫ আগস্টে যারা বিতাড়িত, তাদের সাথে এরা তলে তলে আবার খাতির শুরু করেছে। যেভাবে ৯৬ সালে করেছিল, যেভাবে ৮৬ সালে করেছিল। তাদের সাথে নতুন কয়েকটি লেজও গজিয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বৈলর ইউনিয়নের কানহর এলাকায় ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন-চার দিন আগে ঢাকায় একটি অত্যন্ত অন্যায়, অত্যন্ত দুঃখজনক, একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এই বাচ্চাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে- আপনারা দেখেছেন। আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি যে আইনের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করে তার শাস্তি পেতে হবে। আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। কিন্তু আপনি যখন কোনো কাজ করেন- সেটি কৃষিকাজ হোক, সংসারের কাজ হোক- যেকোনো কাজ করতে একটা নিয়ম-কানুন আছে। আপনি যদি ধান চাষ করেন, শাকসবজি চাষ করেন- কখন বীজ বুনবেন, কখন পানি দেবেন, কখন সার দেবেন- নিয়ম-কানুন আছে না? ঠিক তেমনি যেকোনো অন্যায়ের বিচার করতে হলে, শাস্তি দিতে হলে সরকারেরও কতগুলো নিয়ম-কানুন আছে।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ একটা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে, এখানে আগুন ধরাচ্ছে, ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। এই কাজগুলো তারা করলে- আইনের শাসনকে তারা বাধাগ্রস্ত করছে না? আইনকে আইনের মতন চলতে দিচ্ছে?

তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, সেই সময় দেশে কয়েকটি দুঃখজনক এ রকম অন্যায় ঘটেছে। সেই অন্যায় যখন ঘটেছে, আমি নিজে এই সকল বাচ্চার মায়েদের সাথে কথা বলেছিলাম। আমাদের দলের আইনজীবী, আমাদের দলের চিকিৎসকরা গিয়ে সেই চিকিৎসা দিয়েছে, আইনজীবীরা গিয়ে সেই আইনি সহায়তা করেছিল। কিন্তু তখন আজকে যেই সকল ব্যক্তিরা হইচই করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে- সেদিন কিন্তু তাদেরকে আমরা মাঠে দেখিনি। তাহলে কি আমরা ধরে নেব- আজকে যেহেতু জনগণ ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই জন্যই তাদের জ্বালা হচ্ছে এবং এই জ্বালার কারণেই তারা এইসব কর্মকাণ্ড করছে?

তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, যারা এইরকম পরিস্থিতি তৈরি করতে চেষ্টা করছে তারা কিন্তু কৃষককে নিয়ে কোনো কথা বলে না। যারা একটা ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করতে চেষ্টা করছে তারা দেশের মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো কথা বলে না। তারা কিন্তু কৃষকের খাল কাটার কথা বলে না, কৃষক কার্ডের কথা বলে না। ছোট ছোট গ্রামের মাসুম বাচ্চারা কীভাবে স্কুলে খালি পায়ে যায়- সেই দিকে তাদের খেয়াল নেই, তাদের নতুন পোশাক দেওয়ার কথা বলে না। তারা যদি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে- এই খাল কাটা বন্ধ হয়ে যাবে সারা বাংলাদেশে, ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? ফ্যামিলি কার্ডের বিতরণ বন্ধ হয়ে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? কৃষক কার্ডের বিতরণ বন্ধ হয়ে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? ইমাম সাহেবদের, মোয়াজ্জিন সাহেবদের, খতিব সাহেবদের, অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের সম্মানি দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? গ্রামের বাচ্চাদেরকে যে নতুন স্কুল ড্রেস দিতে চাইছি, স্কুল ব্যাগ দিতে চাইছি- সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? গ্রামের বাচ্চাদের হবে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তাদের সেই অরাজক পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রামে বসবাসকারী খেটে খাওয়া মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। বাংলাদেশের জনগণ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে । যেই স্বৈরাচার বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, খেটে খাওয়া মানুষের সকল প্রকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল, সেই স্বৈরাচারকে এই বাংলাদেশের মানুষ, ছাত্র-জনতা এক রাজপথে একত্রিত হয়ে এই দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ দেশ গঠন করতে চায়, ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয়- আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয় করে তুলতে হবে, কাজে ব্যবহার করতে হবে। দক্ষ শ্রমিকের হাত তৈরি করতে হবে। আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত দিয়ে নতুন ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। তাহলেই আমরা এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবো।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ধরার খাল খনন করেছিলেন। বাবার খনন করা খালটি ৪৭ বছর পর পুনঃখননের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টা ২১ মিনিটে এসে পৌঁছান। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে খালপাড়ে এসে পথমেই খাল কাটার উদ্বোধন করেন।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান, সদর আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন, গফরগাঁও আসনের এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com