আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে একটি যুদ্ধফেরত সৈনিকদের সংগঠন সমর্থকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, সমর্থকরা যেন ম্যাচকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সার্বভৌমত্বের দাবি সামনে না আনেন। এর বদলে তারা শুধু ফুটবলের দিকে মনোযোগ দিক।
১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে একটি ছোট যুদ্ধ হয়েছিল। ব্রিটিশরা এই দ্বীপকে বলে ফকল্যান্ড। আর্জেন্টাইনরা বলে মালভিনাস। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা মারা যান। ব্রিটিশ পক্ষের ২৫৫ জন সেনাও প্রাণ হারান।
সোমবার এপ্রিল ২ ওয়ার ভেটেরান্স ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলে, এই ম্যাচ কোনো সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রতিশোধ নয়। তারা বলে, ‘এটি কোনো সশস্ত্র প্রতিশোধ নয়, ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণও নয়’।
তারা সমর্থকদের এবং সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে নিহত আর্জেন্টাইন সেনাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে বলেছে। তবে তারা এটাও বলেছে যে এই স্মৃতিচারণে যেন কোনো ঘৃণা বা বিদেশি-বিদ্বেষ না থাকে।
বিবৃতিতে সংগঠনটি বলে, ‘কূটনীতি, ঐতিহাসিক সত্য এবং আমাদের জাতীয় সংবিধানে লেখা শান্তিপূর্ণ ও অপরিবর্তনীয় দাবির মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হয়’।
তারা আরও বলে, ‘খেলার আবেগ আর জাতীয় বিষয়ের মধ্যে স্পষ্ট ও অটল একটি সীমারেখা টানা জরুরি বলে আমরা মনে করি। বল গড়াবে, আমাদের রঙের প্রতি গর্ব বাড়বে, কিন্তু স্মৃতি অটুট থাকবে’।
ব্রিটেন এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে। সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতিও আছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কূটনৈতিক পথে এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরছে।
এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সমর্থক এবং খেলোয়াড়রা একটি গান গাইছেন। এই গানে দ্বীপপুঞ্জের কথা আছে। এতে দিয়েগো মারাদোনার নামও আছে। এই গানে লিওনেল মেসির দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নের কথাও বলা হয়েছে।
তবে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ এই দ্বন্দ্বের আলোচনা কমাতে চেয়েছেন। কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, বুধবারের ম্যাচে দুই দলের মধ্যে শুধু ফুটবলই থাকবে। এর বাইরে আর কিছু থাকবে না।
সোমবার ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এই সেমিফাইনাল ‘এটা শুধুই একটা ফুটবল ম্যাচ। এটা দুটি গর্বিত জাতির লড়াই। মাঠের খেলাই সব কথা বলবে।’
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ফুটবলে অনেক পুরনো এবং বিখ্যাত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। এর মধ্যে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ওই ম্যাচে মারাদোনা তার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি করেছিলেন।