August 7, 2026, 9:16 am

বিদেশি অনুদান আইনে নতুন সংশোধনী ভারতের জন্য হুমকি: শশী থারুর

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, August 6, 2026
  • 33 Time View
50

ভারতের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (এফসিআরএ) সংশোধনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুরের দাবি, প্রস্তাবিত এই সংশোধনী কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ।

তার মতে, এটি কেবল একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্পর্কের মৌলিক কাঠামো বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার আগামী সপ্তাহে সংসদে ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২৬ উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগেই বিলটির কড়া সমালোচনা করেছেন শশী থারুর।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কেরালার তিরুবনন্তপুরমের এই সংসদ সদস্য সংশোধনীকে ‘নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের বিপজ্জনক সম্প্রসারণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী আদর্শ ও স্বাধীন মতপ্রকাশের প্রতি অসহিষ্ণুতার কারণে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

থারুরের ভাষ্য, বর্তমান সরকার অলাভজনক দাতব্য সংস্থা, থিঙ্ক ট্যাংক এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে না দেখে বিদেশি প্রভাব ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে উপস্থাপন করছে। ফলে বিদেশি অনুদানের ওপর তাদের নির্ভরতাকে লক্ষ্যবস্তু করে কার্যক্রম সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল হলে, স্বেচ্ছায় সমর্পণ করা হলে কিংবা নবায়ন না হওয়ায় মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সরকার একটি ‘ডিজাইনেটেড অথরিটি’ নিয়োগ করতে পারবে। এই কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান এবং সেই অর্থে অর্জিত সম্পদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, যদি ওই সম্পদের মধ্যে কোনো উপাসনালয় থাকে, তাহলে তার ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

থারুরের অভিযোগ, এফসিআরএ আইনের ধারাবাহিক সংশোধনের মাধ্যমে সরকার ইতোমধ্যে নানা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোর মধ্যে অনুদান পুনর্বণ্টন নিষিদ্ধ করা, প্রশাসনিক ব্যয়ের সীমা কমিয়ে আনা এবং বিদেশি অনুদানের অর্থ গ্রহণের জন্য দিল্লির একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখা বাধ্যতামূলক করা।

তার দাবি, এসব বিধিনিষেধের কারণে বিদেশি অনুদানের পরিমাণ ৮৭ শতাংশ কমে গেছে। ফলে হাজার হাজার ধর্মনিরপেক্ষ ও কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

শশী থারুর বলেন, ভারতে চার্চ ও তাদের পরিচালিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সম্পদ অধিগ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হলে এই খাত স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কেরালায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে খ্রিস্টান পরিচালিত ট্রাস্ট, স্কুল, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সেবা দিয়ে আসছে। স্থানীয় অনুদান, দেশীয় ফি এবং বিদেশি সহায়তার সমন্বয়ে এসব প্রতিষ্ঠান আধুনিক চিকিৎসা, শিক্ষাবৃত্তি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

থারুরের মতে, এফসিআরএ লাইসেন্সসংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে সরাসরি জমি ও ভবন বাজেয়াপ্ত করার সঙ্গে যুক্ত করা হলে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক বিলম্ব বা প্রতিকূল সিদ্ধান্তের কারণে ৫০০ শয্যার একটি দাতব্য হাসপাতালও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। এতে জরুরি জনসেবা ব্যাহত হবে এবং সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন সাধারণ মানুষ।

তিনি বলেন, বহু প্রজন্ম ধরে ভারতের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখা দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন শাস্তিমূলক আইনি কাঠামোর আওতায় আনা গভীর অন্যায়।

বিলটিকে ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ উল্লেখ করে শশী থারুর সংসদে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি সংস্থা মোট ৫৫ হাজার ৭৪১ কোটি রুপি বিদেশি অনুদান পেয়েছে।

অন্যদিকে এফসিআরএ পোর্টালের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত ভারতে ১৪ হাজার ৪৪৯টি সক্রিয় এফসিআরএ সনদ রয়েছে। একই সময়ে ২২ হাজার ৪৯৮টি সনদ বাতিল হয়েছে এবং ১৫ হাজার ২১২টি সনদের মেয়াদ নবায়ন না হওয়ায় সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com