August 7, 2026, 9:15 am

সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুরের জামিন স্থগিত, আত্মসমর্পণের নির্দেশ

Reporter Name
  • Update Time : Friday, August 7, 2026
  • 37 Time View
61

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘চেম্বার আদালতের আদেশ অনুযায়ী হাফিজুর রহমান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অন্যথায় নিম্ন আদালত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেবেন।’

আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রোববার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তনু হত্যার দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন এ মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি।

বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ২ অগাস্ট তাকে জামিন দেয়। এর দুই দিনের মাথায়, ৪ আগস্ট তিনি কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি পান। রাষ্ট্রপক্ষ হাই কোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সবশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।

প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মামলাটির দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

চলতি বছরের ৬ এপ্রিল তিনি আদালতে সাবেক তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির আবেদন করেন। তারা হলেন- এ মামলার প্রধান আসামি অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলম।

এরপর ২২ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতারের তথ্য জানান।

এ ছাড়া সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন জাহিদুজ্জামান ও শাহিনুল আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দেয় আদালত।

এরই ধারাবাহিকতায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৭ জুলাই কুমিল্লার আদালতে আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে।

আদালত ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুতের পাশাপাশি তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষার নির্দেশ দেয়।

ওই দুইজন হলেন- সাবেক সেনা সদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং ফয়সাল আহমেদ রাব্বাী। তাদের মধ্যে রাব্বী সামরিক বাহিনীতের ছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com