October 3, 2026, 3:06 am
সর্বশেষ সংবাদ:
রাকসুর এক বছর: শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা রয়েই গেছে ২২ বছর পর জিম্বাবুয়ে সফরে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার: ছেলে বললেন, ‘ফেসবুক দেখে জাজ করেন’ বাবার মুখে রুটি তুলে দেওয়া সেই শিশুর হাত ধরে স্কুলে নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও সেপ্টেম্বর মাসে হামলা, গ্রেপ্তার, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার ৭০ সংবাদকর্মী পাকিস্তানে প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খুবি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া গাজা-ইয়েমেনসহ ১২ সংকটে জাতিসংঘের ১৬ কোটি ডলার সহায়তা নিয়োগপত্র পেতে যাচ্ছেন ভিটেবাড়ি না থাকা সেই মিশন আচার্য

জামিন পেলেন দুধের শিশুসহ কারাগারে পাঠানো সেই ফাতেমা

Reporter Name
  • Update Time : Monday, September 7, 2026
  • 57 Time View

স্বামী হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে পাল্টা মামলার গ্যাঁড়াকলে পড়ে ১৫ মাসের দুধের শিশুসহ কারাবন্দি হওয়া ফাতেমা বেগম শেষ পর্যন্ত জামিন পেয়েছেন। সম্প্রতি মহেশখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইনের আদালত এক হাজার টাকার মুচলেকায় স্থানীয় এক গণ্যমান্য ব্যক্তির জিম্মায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। দীর্ঘ সাত দিন শিশু সন্তানকে নিয়ে কারাভোগ করার পর বিকেলে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। তার আইনজীবী মোয়া আনছার আদালতের এই আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে, যখন মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে ফিশিংবোটের শ্রমিক মুহাম্মদ কাশেমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে ১০ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলার প্রায় চার মাস পর মূল আসামিদের একজন রাসেলের মা নুরজাহান বেগম পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ফাতেমাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে ফাতেমার জন্য বিপদ ডেকে আনে।

তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে পরবর্তীতে নানা বিতর্ক তৈরি হয়, কারণ এতে সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল তাদের অনেকেই এমন কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী সত্যতা পাওয়ার দাবি করেন। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ ফাতেমা, তার শাশুড়ি এবং বেড়াতে আসা এক মেয়েকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী সময়ে অন্য দুই জনের জামিন হলেও ১৫ মাসের শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে কারাগারে যেতে হয় ফাতেমা বেগমকে।

মায়ের এই আকস্মিক কারাবাসের ফলে ফাতেমার অপর দুই স্কুলপড়ুয়া মেয়ে—চতুর্থ শ্রেণির রাজমিন এবং প্রথম শ্রেণির মিশকাত জান্নাতকে বাধ্য হয়ে এতিমখানায় আশ্রয় নিতে হয়। দুধের কোলের শিশুকে নিয়ে একজন মায়ের এমন কারাভোগের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম এ মান্নান ফাতেমাকে আইনি সহায়তার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড এবং আইনজীবী সমিতিকে বিশেষ নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসকের এই ইতিবাচক হস্তক্ষেপে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং অসহায় মা সন্তানসহ মুক্তি লাভ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com