দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এখন নিজের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নানা প্রতিকূলতা ও সমালোচনার মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকেই তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশ আলোচিত হয়ে আসছেন। বিশেষ করে পপতারকা কেটি পেরির সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত নানা কর্মকাণ্ড নিয়মিতই গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে। তবে এবার রাজনীতিকে পুরোপুরি পেছনে ফেলে তিনি বিনোদন ও চলচ্চিত্র জগতের দিকে ঝুঁকেছেন বলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
রাজনীতির মঞ্চ থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই কানাডার এই সাবেক নেতার নতুন কোনো পেশাগত পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি মর্যাদাপূর্ণ টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জমকালো আয়োজনে লালগালিচায় হেঁটে তিনি এই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের খ্যাতনামা নির্মাতা, তারকা শিল্পী ও প্রযোজকদের সমাগমে ভরা এই উৎসবে তার উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
চলচ্চিত্র উৎসবের এই উপস্থিতি নেহাত কোনো সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা ছিল না বলে মনে করছেন বিনোদন বিশ্লেষকরা। রাজনীতি ছেড়ে আসার পর গণমাধ্যম ও সৃজনশীল শিল্পে জাস্টিন ট্রুডোর যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার সঙ্গে এই ঘটনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিছুদিন আগে ‘হোপ অ্যান্ড হার্ড ওয়ার্ক’ নামক একটি নতুন গণমাধ্যম ও বিনোদন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দিয়ে তিনি এই ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নানামুখী বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরি এবং সৃজনশীল মাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
রাষ্ট্র পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির দীর্ঘ ব্যস্ততা শেষে একজন সাবেক সরকারপ্রধানের এমন ভিন্ন ধারার পেশায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন বিশ্ববাসীর কাছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত থাকলেও, ট্রুডো এখন ক্যামেরার পেছনের দুনিয়ায় নিজের নতুন পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। যদিও বিনোদন দুনিয়ায় তার কাজের পরিধি ঠিক কতখানি বিস্তৃত হবে কিংবা তিনি শুধু প্রযোজনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও চলচ্চিত্র উৎসবের আঙিনায় তার সরব উপস্থিতি এটিই প্রমাণ করে যে তিনি নতুন কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে দর্শকের সামনে হাজির হতে চলেছেন।