সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে আলোচিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’। ছবিটির প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর দর্শকরা টানা প্রায় ২৪ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে নিজেদের মুগ্ধতা প্রকাশ করেন, যা এই মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ স্থায়ী অভ্যর্থনা হিসেবে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তথ্যচিত্রটির দুই নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোর বিশেষ জুরি পুরস্কারের ভূষিত হন। তবে উৎসবে অর্জিত এই আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও সম্মান তাদের জন্য নিজ দেশে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যচিত্রটির মূল বিষয়বস্তু এবং এর ভেতরের বার্তা প্রকাশের পর থেকেই ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, ‘নাজা’ তথ্যচিত্রটিতে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালিত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম এবং এর পেছনের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা সমালোচনামূলকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবিটির বিষয়বস্তুকে নিজ দেশের স্বার্থের পরিপন্থী ও ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটির সরকারি মহল। ফলে পুরস্কার অর্জনের আনন্দের পরিবর্তে এখন দুই নির্মাতাকে নিজ দেশের কঠোর রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এই ঘটনার জেরে ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার ছবিটিকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন এবং নির্মাতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার গুরুতর অভিযোগ আনেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বার্তায় তিনি ঘোষণা দেন যে, দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি ওই দুই নির্মাতার ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবেন। মন্ত্রীর দাবি, বিশ্বমঞ্চে কিছু মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর হীন উদ্দেশ্যে নির্মাতারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এমন কঠোর হুমকির মুখেও অভিযুক্ত নির্মাতাদের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে ভেনিস উৎসবে পুরস্কার গ্রহণ করার সময় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম জানিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলের রাজনীতিক ও গণমাধ্যমের দিক থেকে আসা সমালোচনার মোকাবিলা করা তাদের জন্য সহজ নয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, ছবিটি না দেখেই অনেকে এর তীব্র সমালোচনা করছেন এবং বাস্তবতাকে অস্বীকার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কোনো ধরনের অন্যায় বা অপরাধ লুকিয়ে রাখলে তা কেবল টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে মন্তব্য করে তিনি ইসরায়েলি নাগরিকদের পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকার দর্শকদেরও ছবিটি দেখার অনুরোধ জানান। পুরস্কার জয়ের এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্র ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার এক নতুন বিতর্কে রূপ নিয়েছে।