September 15, 2026, 12:32 pm

মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য আসছে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, September 15, 2026
  • 9 Time View

ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির প্রেক্ষাপটে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বর্ষাকালের শেষভাগে এডিস মশার বিস্তার রোধে সংস্থাটি আগামী দিনগুলোতে ‘১০০-তে ১০০’ নামের একটি বিশেষ ক্রাশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে। মূলত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়ে এডিস মশার প্রজনন ও উপদ্রব সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়, যা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই হাজারের অধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান এই স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় দুই সিটি করপোরেশনের তৎপরতা বাড়ানোর তাগিদ অনুভূত হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে।

মশক নিধনের ক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) এক প্রকার সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতদিন উড়ন্ত মশা দমনে ব্যবহৃত ডেলটামেথ্রিন ওষুধের কার্যকারিতা ঢাকার মশার ওপর কমে যাওয়ায় তারা বিকল্প হিসেবে ম্যালাথিয়নের দিকে ঝুঁকেছিল। কিন্তু নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ম্যালাথিয়নের নমুনা পরীক্ষাগারে উত্তীর্ণ না হওয়ায় দেখা দেয় চরম ওষুধ সংকট। বাধ্য হয়ে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে ম্যালাথিয়ন ধার হিসেবে চেয়েছিল এবং সেখান থেকে পাওয়া সীমিত পরিমাণ ওষুধ দিয়েই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অপর্যাপ্ত এই আগাম প্রস্তুতির কারণে রাজধানীতে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ডিএনসিসির নতুন ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই বিশেষ অভিযানের জন্য নিজস্ব জনবলের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে মাঠপর্যায়ে কাজের কোনো ত্রুটি না থাকে। পুরো উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার অন্তত একশটি সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বা হটস্পট এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি নির্দিষ্ট স্পটে প্রতিদিন দশজন করে কর্মী নিয়োজিত থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কাজের স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপও চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাঠের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে আপডেট করবেন।

দীর্ঘমেয়াদি ও সুশৃঙ্খল এই ক্রাশ কর্মসূচিটি টানা একশ দিন ধরে অব্যাহত থাকবে বলে ডিএনসিসি পরিকল্পনা করেছে। মশক দমনের এই অভিনব ও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের বিষয়টি ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই মডেলটি অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। রাজধানীতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবং সাধারণ মানুষকে এই মশাবাহিত রোগের মারাত্মক প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে মাঠপর্যায়ের এই সমন্বিত কার্যক্রম কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। নগরবাসীও এই অভিযানের সুফল পাওয়ার প্রত্যাশায় উন্মুখ হয়ে আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com