ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় একটি দ্রুতগামী স্পিডবোট এবং স্টিলের বাল্কহেডের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের নিকটবর্তী বেমালীয়া নদীতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাতের অন্ধকার নামার পর ঘটিত এই আকস্মিক মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, জলপথে চলাচলকারী দুটি যানের পারস্পরিক দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণেই মূলত এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে যে, দুর্ঘটনাটির ঠিক আগে একটি অসুস্থ রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিয়ে স্পিডবোটটি নিরাপদে চাতলপাড়ের দিকে ফিরে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বেমালীয়া নদীর নির্দিষ্ট ওই মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসা একটি ভারী স্টিলের বাল্কহেডের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এই আকস্মিক ও প্রচণ্ড অভিঘাতে স্পিডবোটটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর ভেতরে অবস্থানরত যাত্রীরা পানিতে ছিটকে পড়েন বা আঘাতপ্রাপ্ত হন।
সংঘর্ষের এই তীব্রতায় স্পিডবোটে থাকা মোট তিনজন যাত্রী গুরুতর জখম হন এবং তাদের আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে এসে আহত ব্যক্তিদের পানি থেকে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালটিতে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই যাত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর আহত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত দুজন ব্যক্তির সঠিক পরিচয় পরবর্তীতে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের মধ্যে একজন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড় গ্রামের রায়হান ভূঁইয়ার ছেলে মো. দয়াল মিয়া এবং অপরজন পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার বরারচর গ্রামের হানিফ মিয়ার সন্তান সজীব মিয়া। এই আকস্মিক ও অপমৃত্যুর সংবাদে নিহতদের নিজ নিজ পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে দুজন নিহতের এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। এই নৌদুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং বাল্কহেড চালকের কোনো দোষ ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।