কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় পুলিশের হাতকড়া পরে পালিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়াকে পুনরায় আটক করা হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা সাঁড়াশি অভিযান শেষে নিজ এলাকা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়ন থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এর আগে একই দিন দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে আটকের পর কৌশলে পালিয়ে গিয়েছিলেন এই রাজনৈতিক নেতা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক রেনু মিয়া ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তিনি স্থানীয় ইল্লাত মিয়ার ছেলে। গত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় দায়ের করা একটি মামলার তালিকাভুক্ত আসামি ছিলেন তিনি। মামলার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং পুলিশ তাকে ধরার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তবে তাকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও উৎসুক জনতা তার বাড়ির সামনে ভিড় জমায়। সেই ভিড় ও হট্টগোলের সুযোগ নিয়ে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই পালিয়ে যান রেনু মিয়া। আসামি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। তাকে পুনরায় গ্রেফতারে কুলিয়ারচর থানা পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে চিরুনি অভিযান শুরু করে এবং তার নিজ এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
দীর্ঘ তল্লাশি ও নজরদারির পর অবশেষে ওই দিন রাত দশটার দিকে নিজ এলাকা থেকেই তাকে আবারও আটক করা হয়। কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, পালিয়ে যাওয়া রেনু মিয়াকে আটকের পর কুরিয়ারচর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশের হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।