জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক ও অভিনেত্রী সামিয়া আফরিন দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েও দীর্ঘ চিকিৎসা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি সেই যাত্রায় জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তার শরীরে নতুন করে মরণব্যাধি এই রোগ বাসা বেঁধেছে, যা তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য বেশ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এবার তার জরায়ুতে ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীতে হাই-গ্রেড কার্সিনোমা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর চিকিৎসার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন।
ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পরপরই চিকিৎসকরা দ্রুত তার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকে নিয়মিত কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে। প্রথমবার কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সময় তাকে কেমোথেরাপির ধকল সইতে হয়নি, কারণ সেবার কেবল ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমেই তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। ফলে এবারের অভিজ্ঞতা তার জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বেশ কষ্টদায়ক। কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল ঝরে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চিকিৎসকরা তাকে অবহিত করেছিলেন। তবে এই অনিবার্য পরিবর্তনের জন্য ভেঙে না পড়ে তিনি নিজেই মাথার সব চুল ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং নিজের নতুন রূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই নতুন ও সাহসী লুকের কথা প্রকাশ করে একটি আবেগঘন দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ছোটবেলার পর জীবনে এমন পরিস্থিতি কখনো আসবে এবং তাকে পুরোপুরি বল্ড হতে হবে, সেটি তিনি কল্পনাই করেননি। জীবনের সব পরিবর্তন মানুষের ইচ্ছামতো হয় না উল্লেখ করে তিনি জানান যে, অনেক সময় অপছন্দের বিষয়গুলোকেও বাস্তবতার খাতিরে মেনে নিতে হয়। বাহ্যিক সৌন্দর্য কেবল আয়নার ফ্রেমে বন্দি থাকে না, বরং নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস ও প্রকৃত রূপকে ভালোবেসে গ্রহণ করাই আসল সৌন্দর্য বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তার এই নতুন রূপ মূলত কঠিন সময়েও নিজের প্রতি ভালোবাসা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য সাহসের একটি অনন্য গল্প।
ক্যানসারের মতো একটি দুরারোগ্য ব্যধির সঙ্গে লড়াই করার তীব্র যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন যে, এই কঠিন পথচলা কতটা বন্ধুর তা কেবল ভুক্তভোগীরাই অনুধাবন করতে পারেন। তিনি মনেপ্রাণে চান, তার কোনো আপনজন বা পরিচিত কেউ যেন কখনো এমন দুঃসময়ের মুখোমুখি না হন। কঠিন এই সময়গুলোতে মানসিকভাবে শক্ত থাকার জন্য এবং অতীতের মতো এবারও মনের জোর বজায় রাখতে তিনি সবার কাছে আন্তরিক দোয়া প্রার্থনা করেছেন। চিকিৎসকদের সহযোগিতা এবং সবার দোয়ায় তিনি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক ও কর্মোজ্জ্বল জীবনে ফিরে আসতে পারবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।