কুড়িগ্রামের ধরলা সেতু এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকা যাওয়ার পথে একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ছুটির দিন কিংবা সাধারণ সময়ে এই সেতুতে যান চলাচল ও জনসমাগম বেশি থাকায় দুর্ঘটনাটি এলাকায় বড় ধরনের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হতাহতদের উদ্ধার করে।
নিহত দুই যুবক মোটরসাইকেলে চড়ে কুড়িগ্রামের একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। পথিমধ্যে ধরলা সেতুর ওপর পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন বা পাশ থেকে তাদের ধাক্কা দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। আকস্মিক এই ধাক্কায় দুই আরোহী ছিটকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। স্থানীয় পথচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেয় এবং উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটির চালক ও সহকারী গাড়িটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ বাসটিকে আটক করতে সক্ষম হলেও চালক ও তার সহকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ বাসটিকে জব্দ করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় নিয়ে গেছে এবং পলাতক চালককে আটকের জন্য অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ধরলা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সেতুর উভয় প্রান্তে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত উপস্থিতি এবং ভারী যানের গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, সড়ক আইন অমান্যকারী ও বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও জোর দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে।