সাতক্ষীরার তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় ও অপচিকিৎসার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সাধন বিশ্বাস নামের এক রোগী মারা গেছেন। নিহত সাধন বিশ্বাস জেলার মাহমুদকাটি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল অপারেশনের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও শোকার্ত স্বজনেরা। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর সাধন বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং তিনি নানা জটিলতায় পড়েন। রোগীর স্বজনেরা সেই সময় উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে অন্যত্র রেফার করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সেই অনুরোধ আমলে নেওয়া হয়নি এবং উল্টো দ্বিতীয় দফায় আবারও অস্ত্রোপচার করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এই দ্বিতীয় দফার ভুল অপারেশনের ফলেই মূলত রোগীর শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে ডা. আব্দুর রহমান জানান যে, অপারেশনের পর সাধারণত রোগীর স্বাভাবিক মলত্যাগ নিশ্চিত হলে ধরে নেওয়া হয় যে তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন। তবে সাধন বিশ্বাসের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলে তিনি দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন এবং আরও অভিজ্ঞ কোনো চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্লিনিকের পরিচালক বিধান নিজস্ব আত্মবিশ্বাসের কথা বলে কারও পরামর্শ না শুনে নিজেই দ্বিতীয়বার অপারেশন করান। মূলত পরিচালক বিধানের এই খামখেয়ালি ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের খেসারত হিসেবেই রোগীর জীবন প্রদীপ নিভে গেছে বলে চিকিৎসকের কথায় ইঙ্গিত মিলেছে।
এদিকে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের পরিচালক বিধানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মন্তব্য বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তিনি বা তার প্রতিনিধিরা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন। চিকিৎসায় অবহেলার এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীর স্বজনেরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।