কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী জনপদগুলোকে প্রমত্তা মেঘনা নদীর করাল গ্রাস থেকে রক্ষার্থে একটি বড় ধরনের অবকাঠামোগত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান হিসেবে প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুদৃশ্য বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ভৈরব ফেরিঘাট থেকে শুরু করে মেন্দিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রকল্পটির কাজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উক্ত অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মেঘনা নদীর ভাঙনকবলিত কালিপুর এলাকা পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি উল্লেখ করেন যে, নদীভাঙনের কারণে ভৈরব শহর ছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বহুদিনের দাবি এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে প্রাধান্য দিয়েই মূলত এই বিশাল অংকের বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল নদীভাঙন রোধই করা হবে না, বরং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হবে। বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে নির্মিতব্য নতুন এই সড়কটি স্থানীয় জনসাধারণের সহজ যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া, বাঁধ নির্মাণের ফলে মেঘনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও বিলগুলোর প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট স্থানে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ওই দিন পরিদর্শনের পাশাপাশি ভৈরব উপজেলায় আরও বেশ কিছু জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্থানীয় ফুটবল একাডেমির মাঝে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন এবং স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে হরিজন পল্লীতে স্যানিটেশন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকাজের শুভ উদ্বোধন করেন। এসব অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।